মান্দায় মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডারের বিরুদ্ধে আরেক মুক্তিযোদ্ধার মামলা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২০; সময়: ৪:২০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বসতবাড়ি ‘বীর নিবাস’ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মান্দা উপজেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার আফছার আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে নওগাঁ আদালতে গত ২৬ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা কালীপদ সরকার।

মামলাটি আমলে নিয়ে মান্দা থানাকে এজাহার প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তা রেকর্ডভূক্ত করার নির্দেশ দেন আদালত। গত ১৩ ডিসেম্বর মান্দা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত শুরু হয়নি। এতে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা কালীপদ সরকার। তিনি উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মৃত গুমানী সরকারের ছেলে।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, সরকারি বসতবাড়ি ‘বীর নিবাস’ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাবেক কমান্ডার আফছার আলী মন্ডল মুক্তিযোদ্ধা কালীপদ সরকারের নিকট থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। ৬ মাসের মধ্যে ‘বীর নিবাস’ তৈরি করে দেওয়া হবে, সাবেক কমান্ডারের এমন আশ্বাসে সোনালী ব্যাংক মান্দা শাখা থেকে ঋণ উত্তোলন করে গতবছরের ৬ অক্টোবর তার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়।

কিন্তু দীর্ঘ দিনেও বাড়ি তৈরি না হওয়ায় সাবেক কমান্ডার আফছার আলীর নিকট টাকা ফেরত চান মুক্তিযোদ্ধা কালীপদ সরকার। এনিয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্বেও টাকা ফেরত পাননি ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দাখিল করেও প্রতিকার পাননি তিনি। অবশেষে ন্যায় বিচারের আশায় গত ২৬ নভেম্বর তিনি নওগাঁ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা কালীপদ সরকার অভিযোগ করে বলেন, নওগাঁ আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকে তা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন সাবেক কমান্ডার আফছার আলী। তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের হুমকির মুখে তিনি বাইরে যেতে পারছেন না। সাবেক কমান্ডার প্রভাবশালী হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

তবে বাড়ি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মান্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আফছার আলী মন্ডল। তিনি বলেন, যে সময়ের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে সেসময় আমি কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলাম না। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বসতবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘর পাবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা। একটি মহল ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনায় গত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করে তদন্তের জন্য থানার উপপরিদর্শক আতিউর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে