বদলগাছীতে নির্যাতন মামলা করে হুমকির মুখে এক পরিবার

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০১৯; সময়: ৮:১৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্যাতনের মামলা করে হুমকির মুখে রয়েছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার শর্মাপুর গ্রামের এক পরিবার। মামলা তুলে নিতে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ গত ১২ মে পরিবারটির সদস্যদের প্রকাশ্যে প্রাণ নামের হুমকি দেয়। এ নিয়ে ১৪ মে সোহেল রানা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।

শিশুকে নিয়ে কুটুক্তি করার জের ধরে গত ১১ এপ্রিল দুপুরে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ভুট্টুর জামাতা হাকিম হোসেনের নেতৃত্বে সোহেল রানার পরিবারের উপর হামলা হয়। এ সময় তারা সোহেল রানার পরিবারের চার সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আহতরা হলেন, সোহেল রানার বাবা আব্দুস সাত্তার, মা রিনা বেগম, স্ত্রী রাখি ইয়াসমিন ও ছোট বোন প্রিয়া আক্তার। তাদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসকরা সোহেল রানার বাবা আব্দুস সাত্তারকে রাজশাহীতে স্থানান্তর করে । প্রায় এক মাসের বেশি চিকিৎসা শেষে ছাড় পত্র দেয় হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

এ ঘটনার পরের দিন সোহেল রানা বদলগাছী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় আসামী করা হয় হাকিম ও মিজানুর রহমানসহ ছয়জনকে। আসামীদের মধ্যে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনার পর পলাতক থাকলেও পরে তারা সবাই জামিন নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। পরে মিজানুর রহমান থানায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করে। মামলায় সোহেল রানা ও তার পরিবারের আহত চারজনসহ ছয়জনকে আসামী করে। এর পর থেকে তারা শুরু করে নতুন করে হুমকি-ধামকি। কিন্তু ঘটনার দিন সোহেল রানা বাড়িতে ছিলেন না।

সোহেল রানা জানান, তার শিশু সন্তানকে নিয়ে কুটুক্তি করে মিজানুরের স্ত্রী। এর প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে কথা কাটাখাটি হয়। এর জের ধরে পরেরদিন তারা আমার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করে।

তিনি আরও বলেন, আসামীরা জামিনে আসার পর থেকে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছে।

সোহল রানার মা, বোন ও স্ত্রী জানান, মিজানুর রহমানের জামাতা হাকিম তাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তার বাড়ি রাণীনগরে। সে স্থানীয় মাস্তান নামে পরিচিত। হাকিম বাড়ির মেয়ের মারপিট করা ছাড়াও শ্লীলতাহানী করে।

এলাকাবাসি জানায়, মিজানুর রহমানের পরিবারের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা গায়ে পড়ে ঝগড়া করে। কেউ কিছু বলতে গেলেই হুমকি-ধামকি দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রলোভন দিয়েও টাকা আত্নসাৎ করে বলে জানান তারা।

এ ব্যপারে মিজানুর রহমান ভুট্টু ও তার স্ত্রী হিরা বেগম জানান, ঘটনার সময় আমরাও আহত হয়েছি। কিন্তু আমরা কাউকে ভয় পায়না। আমাদের এক জনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো আমরা জামিন করে বের করে নিয়ে এসেছি। জেল জরিমানা হলেও আমরা ভয় পাইনা বলে দাম্ভিক্ক দেখান মিজানুর ও তার স্ত্রী হিরা।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার হেলালুজ্জান বলেন, মিজানুর রহমানের পরিবার কারও কথা শুনে না। সে কারণে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করা যায়নি। তাদের আইনগতভাবে বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন সোহেল রানা আমার সঙ্গে একটি জানাযায় ছিল। এর পরও তারা মামলায় তাকে আসামী করেছে।

বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান সাইদুর রহমান কেটু বলেন, মিজানুর রহমান পরিবারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অনেক অভিযোগ রয়েছে। এর পরও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু মিজানুর রহমানের পরিবার আসেনি। এ নিয়ে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বদলগাছী থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। শুধু মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর সোহেল রানার মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে