নাটোরে মা ও ছেলের খুনের ঘটনায় দেবর গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০১৯; সময়: ৫:৫৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোরের নলডাঙ্গায় মা ও ছেলের জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত গৃহবধুর দেবর মাহমুদুল আলম মুক্তার সংশ্লিষ্ঠতার প্রমান পেয়েছে পুলিশ। দেবর মাহমুদুল আলম মুক্তা পারিবারিক বিরোধের কারনে তার ভাবী শারমিন বেগম (২৫) ও প্রতিবন্ধী ভাতিজা আব্দুল্লাহকে (২) হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

এদিকে ভাবী ও ভাতিজাকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা নিজে স্বীকার করায় নিহতের দেবরকে পুলিশ আটক করেছে। এঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা উমর আলী বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচন করেন পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে ভাবি শারমিন ও ভাতিজা আব্দুল্লাহকে হত্যা করে দেবর মাহাবুবুর রহমান মুক্তা। শারমিনের স্বামী মাহামুদুল ইসলাম মুন্নার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীর সাথে বিরোধ তৈরী হয় দেবর মুক্তার।

এর জের ধরেই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটায় সে। ভাবিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর প্রতিবন্ধী শিশুর বোঝা নিজের ঘারে পড়তে পারে এ আশংকায় বাড়ির পাশে ডোবায় ফেলে হত্যা করা হয় ২ বছরের প্রতিবন্ধী ভাতিজা আব্দুল্লাহকে। জোড়া খুনের এই ঘটনায় বুধবার (১৫ই মে) রাতে মাহাবুল আলম মুক্তাকে (২৩)আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুল আলম মুক্তা পুলিশকে জানায় ,একান্নবর্তী পরিবারে বসবাসের কারণে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ ও প্রতিবন্ধী শিশুপুত্রের চিকিৎসায় অর্থ ব্যয় করেও ফল না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল দেবর-ভাবীর। এরই জেরে হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) আকরামুল হাসান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মীর আসাদুজ্জামান, গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ সৈকত হাসান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত মাহমুদুল হাসান মুন্নার স্ত্রী শারমিন বেগম তার দুই বছরের প্রতিবন্ধি ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে নলডাঙ্গার উত্তর বাঁশিলা গ্রামে স্বামীর পরিবারের সাথে থাকতেন। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাতে শিশু সন্তান আব্দুল্লাহকে নিয়ে ঘুমাতে যায় সে। রাতেরকোন এক সময় ঘরে ঢুকে তাদের হত্যা করে আসামী মাহাবুল আলম মুক্তা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে