শাহজাদপুরে ৩ লম্পট কর্তৃক ধর্ষণে গৃহবধুর সন্তান প্রসব

প্রকাশিত: মে ১০, ২০১৯; সময়: ৩:১২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ি গ্রামে মালয়শিয়া প্রবাসী এক গৃহবধুকে অপহরন করে ৩ লম্পট কর্তৃক জোড় পুর্বক ধর্ষনে সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ফুটফুটে সন্তানটি কার পরিচয়ে বেড়ে উঠবে এ নিয়ে অসহায় ঐ নারী সহ এলাকাবাসী হতাশায়। এদিকে ধর্ষনের বিষয়টি উপযুক্ত বিচারের কথা বলে দীর্ঘ দিন ঝুলিয়ে রাখার ৮ মাস পর দায়ের করা মামলাটি আইনের বিধান মতে না হওয়ায় তা খারিজ হয়। এরপরই ২ সন্তানের জননী গৃহবধু সন্তানটি প্রসব করে। তবে থানা পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার।

নির্যাতীতা গৃহবধু দোলন খাতুন ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, রেশমবাড়ি গ্রামের ইউনুছ আলী গত আড়াই বছর আগে ২ শিশু সন্তান ও তার স্ত্রীকে রেখে মালয়শিয়ায় কাজে যান। এই সুযোগে তার বাড়ির পাশের আফজাল ফকিরের ছেলে লিটন ফকির, মৃত আফছার প্রামানিকের ছেলে ইয়াসিন আলী এবং মৃত রহমান ফকিরের ছেলে স্বপন ফকির মাঝে মাঝে তাকে উত্যাক্ত এবং খাবার অঙ্গ-ভঙ্গী করতো। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি। এরই এক পর্যায়ে গত বছরের ৩০ আগষ্ট রাতে ঘর থেকে বের হলে লিটন, ইয়াসিন ও স্বপন ফকির তাকে নৌকা করে ধরে নিয়ে জোড় পুর্বক পালাক্রমে ধর্ষন করে। এরপর তারা বাড়িতে রেখে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হত্যার হুমকি দেয়। এরপর সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তখন বিষয়টি তাদের অভিভাবক ও স্থানীয় মাতব্বরদের জানালে তারা গ্রাম্য শালীস করে শুরাহা দেবার কথা জানিয়ে দীর্ঘ দিন সময় ক্ষেপন করে।

উপায় না বুঝে গত ২৫ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালত-১ এ একটি মামলা দায়ের করে। এতে ঐ ৩ লম্পটকে আসামী করা হয়। তবে ধর্ষনের দীর্ঘ দিন পর মামলাটি করায় বিধি সম্মত না হওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। এরই মধ্যে গত ৮ মে রাতে তার একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এখন এই সন্তানের কে জনক কেউ তার দায়িত্ব নিচ্ছেনা। এদিকে নির্যাতীতা নারী দোলন খাতুনও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে। এ ব্যাপারে দোলন খাতুন জানান, আমার স্বামীর বাড়ি থেকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে আমাকে। ৫/৭ বছরের ২ সন্তানও তারা রেখে দিয়েছে। এখন যে ছেলে সন্তান আমার হয়েছে তার আমি পিতৃ পরিচয় চাই। তিনি আক্ষেপ করে জানান, আমি নির্যাতিতা হয়ে বিচার পাইনি। এখন আমার সদ্যজাত সন্তান কি তার পিতৃ পরিচয় পাবেনা।

বিষয়টি নিয়ে এলাকা জুড়ে সর্ব মহলে আক্ষেপের শেষ নেই। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, মোকবুল হোসেন সরদার, আমানত আলী প্রামানিক জানান, অবলা এক নারীকে সুযোগ বুঝে জোড় পুর্বক এমন ভাবে ধর্ষনের ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। ধর্ষকদের সাথে এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী মাতব্বররা কৌশলে সহযোগীতা করায় কিছু করতে পারছে না অসহায় পরিবারটি। এমতাবস্থায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অসহায় মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো উচিৎ। আমরা চাই ঐ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি এবং শিশুর পিতৃ পরিচয়।

এদিকে ধর্ষকদের এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া জায়নি। ধর্ষকদের মধ্যে স্বপন ও লিটনের ফোনে কথা বললে সাংবাদিকদের কথা শুনে ফোন কেটে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, আমার কাছে অভিযোগ দিলে ডিএনএ টেস্ট সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে