বদলগাছীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই জবাই করা হচ্ছে পশু

প্রকাশিত: মে ৯, ২০১৯; সময়: ৭:৪৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই উপজেলার বিভিন্ন হাটে মাংস বিক্রির জন্য গরু-ছাগল জবাই করছে কসাইয়েরা। ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই জবাইকৃত পশুর মাংস বিক্রি হচ্ছে অবাধে। ডাক্তার পরীক্ষা না করার কারণে অসুস্থ গরু-ছাগলের মাংস পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে হাট বাজার গুলিতে ফলে হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।

কসাইদের অভিযোগ, গরু-ছাগল জবাইয়ের আগে পরীক্ষা করতে হলে ডাক্তারদের টাকা দিতে হয়। তাছাড়া সময়মতো ডাক্তারও পাওয়া যায় না। তাই রোগাক্রান্ত পশুর মাংস খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে সাধারন মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোগাক্রান্ত দুর্বল গরু – ছাগল জবাই করে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই ডাক্তারি পরীক্ষার নিয়ম মানা হচ্ছে না। এমনকি মাঝে মধ্যে মৃত পশুর মাংস বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় কসাইকরদের সিন্ডিকেটের মাঝে জিম্মি হয়ে পড়ছে উপজেলাবাসী।

উপজেলার বদলগাছী, কোলা, গোবরচাঁপা, ভান্ডারপুর, চাঁদপুর, পাহাড়পুর, মিঠাপুর, বালুভরা ও পারসোমবাড়ী বাজারে গরু-ছাগল জবাই করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ হাট-বাজারেই নেই কোন কসাইখানা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাংস বিক্রেতা বলেন, অসুস্থ গরু-ছাগল কম দামে কেনা যায়। তাই মাঝে মধ্যে আমরা দুই-একটা অল্প অসুস্থ গরু-ছাগল কিনে থাকি। এতে কওে ভালো লাভ পাওয়া যায়।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, উপজেলা প্রণিসম্পদ দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে বিষয়টির দিকে নজরদারি দিচ্ছেন। নানা অযুহাতে এড়িয়ে যাচ্ছেন বিষয়টি।

উপজেলা সদরের বদলগাছী হাটে গবাদি পশু জবাইয়ের সময় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরের নোংড়া পরিবেশে কসাইকররা পশু জবাই করছে। জবাইকৃত অধিকাংশই ছিল রোগা ও দুর্বল পশু। এছাড়া পশু জবাইয়ের পর চামড়া ছাড়ানোর সাথে সাথে কন্টেইনারে করে নিয়ে আসা নদীর নোংড়া পানি মাংসের উপর ঢালতে শুরু করে। একটি গরুতে চামড়া ছাড়ানোর পর থেকে মাংসের দোকানে নিয়ে আসা পর্যন্ত প্রায় ২০ লিটার নদীর নোংড়া পানি মাংসে ঢালা হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার এবং জবাইয়ের পর মাংস পরীক্ষা করা দরকার। কিন্তু সেটা সম্ভব হয় না। কারণ হিসেবে তিনি জানান জনবল সংকটের কথা। তিনি আরও বলেন পশু জবাই হয় শেষ রাতে। সে সময় গিয়ে তদারকি করা সম্ভব নয়। এজন্য তিনি নির্দিষ্ট সময়ে পশু জবাই করা ও নির্দিষ্ট সময়ে মাংস বিক্রির পরামর্শ দেন। তিনি বলেন শুধু বদলগাছী সদর হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় কিন্তু বাহিরের বাজারগুলোতে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগ বলেন, এ বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি তাৎক্ষণিক কসাই নেতাদের সাথে ফোনে কথা বলেন ও তাদেরকে নিয়ম-নীতি মেনে পশু জবাই করার নির্দেশ দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে