কচুরীপানা ও পানির মধ্যে চলছে খাল খনন, অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: মে ৯, ২০১৯; সময়: ১২:৩৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাণীনগর : দায়সাড়া ভাবে কচুরিপানা ও পানির মধ্যেই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোডের খাল খননের কার্যক্রম। নওগাঁর রানীনগরে শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণ এবং কৃষি জমিতে পানি সেচের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোডের (পাউবো) আওতায় খাল খনন কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

খালের পাড় ঘেষে ও পানির মধ্যেই স্ক্যাবেটর মেশিন দিয়ে দায়সারা লোক দেখানো খাল খনন করা হচ্ছে। পানির মধ্যে কি পরিমাণ খনন কাজ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। অপরদিকে খননকৃত মাটি খালের পাড়ে এলোমেলো অবস্থায় রাখার ফলে চলতি ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াই এর কাজে কৃষকদের চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

নওগাঁ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ ইং অর্থ বছরে ৬৪ টি জেলায় খাল খনন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কুজাইল রেগুলেটর থেকে সবরামপুর ও সাদোকালীর মাঠ হয়ে রেলওয়ে চকের ব্রীজ চকবলরাম পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলছে। গত ১২ জানুয়ারী ২০১৯ ইং তারিখে দরপত্র আহবান করা হলে সিরাজগঞ্জ জেলার সামিমুর রহমানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দাপ্তরিক ভাবে দরপত্রের সকল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষে এই খনন কাজের দ্বায়িত্ব পান। দরপত্র মোতাবেক খনন কাজের ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে ১কোটি ৪৬লাখ ৬২ হাজার টাকা। খনন কাজটি ১০ মিটার চওড়া (খালের তলা), স্থান ভেদে সাবেক গভীরতা থেকে ১ মিটার গভীর এবং উপরের দিকে গড় ১৮-২০ মিটার চওড়া। রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ও গোনা ইউনিয়নের কুজাইল, দূর্গাপুর, সবরামপুর, ভবানিপুর, এনায়েতপুর, গোনা ও খট্টেশ্বরসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৫০/৬০ হাজার কৃষকদের সেচ সুবিধার্থে খরা মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণ রাখতে এই খনন কাজ করা হচ্ছে। পানি শুকিয়ে খাল খনন করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। আবার খননকৃত মাটি খালের পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে খালের পাড়ে রাখা মাটি আবারও খালে পড়ে ভরাট হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা বলছেন, কাজের শুরু থেকেই খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে। খাল খননে যে পরিমাণ বরাদ্দ তার অর্ধেক টাকা খরচ হবে না। দূর্গাপুরগ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, খাল যে পরিমান গভীর করার কথা তা করা হচ্ছে না। খালে পানি রেখেই মাটি কাটা হচ্ছে। পানির মধ্য থেকে কি পরিমান মাটি কাটা হচ্ছে তা বুঝা যাচ্ছে না। ধারনার উপর স্ক্যাবিটর দিয়ে পানির মধ্যে দায়সারা লোক দেখানো মাটি কাটা হচ্ছে। আর খালের তলাতো সমান হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এতে সরকারের যে উদ্যেশ্য তা ভেস্তে যাবে।

সবরামপুর গ্রামের কৃষক খাজা মন্ডল, মুনছুরসহ বেশ কয়েক জন বলেন, পাড় কেটে খালে নামিয়ে দিয়ে এরপর আবার মাটি পাড়ে রেখে দেয়া হচ্ছে। নদীর মধ্যে থেকে মাটি কাটা হচ্ছে না। খাল খননে মেলা টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আর যে ভাবে খাল খনন করা হচ্ছে, তাতে হয়ত অর্ধেক টাকাই খরচ হবে না। এখন ধান কাটার ভরা মৌসুম। মাঠ থেকে ধান কাটার পর খালের পাড় দিয়ে কৃষকদের আসা-যাওয়া করতে হয়। খালের পাড়ে যে ভাবে মাটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে ধান বোঝাই করে হেঁটে যাওয়া তো দুরের কথা, শুধু মানুষ হাটাই কষ্টকর।

দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক নাসির সরদার বলেন, কাজের মান একেবারেই খারাপ হচ্ছে। কোথাও মাটি কাটা হচ্ছে আবার হচ্ছে না। আমরা কিছু বললে আমাদের কথায় তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ যেন মগের মল্লুক! দেখার যেন কেউ নাই।

স্ক্যাবেটর চালক সুমন বলেন, তলা ৩২ ফুট, স্লেব ১০-১৫ ফুট, গভীরতা ৩ ফুট করা হচ্ছে। আর বাধ্য হয়ে পানির মধ্যেই মাটি কাটা হচ্ছে। তবে গভীর হলেও সমান হচ্ছে না। কারণ পানিতে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ডেলটা প্লানের আওতায় এ খালটি খনন করা হচ্ছে। সাড়ে ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ কিলোমিটার এর বেশি খনন কাজ হয়েছে। তবে দরপত্রে যা আছে তা থেকে কিছুটা বেশিই খনন করা হচ্ছে। খালে কিছু দুর পর পর বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে সেখানে পানি জমে যাচ্ছে। কাজে কোন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পাড়ে যে মাটি রাখা আছে সেগুলো অনত্র সরিয়ে ফেলা হতে পারে অথবা মাটিগুলো সমান করে দিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে