নিয়ামতপুরে মিথ্যা মামলায় সর্বশান্ত এক পরিবার

প্রকাশিত: মে ৮, ২০১৯; সময়: ১:৩৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুরে মিথ্যা মামলায় সর্বশান্ত হচ্ছে এক গরীব অসহায় পরিবার। সর্বশান্ত ঐ পরিবার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর হঠাৎপাড়ার মোঃ আজিমুদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (টুনু)।

জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল রফিকুল ইসলামের প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের ছেলে জসিম উদ্দিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর বৈধভাবে গাছ কর্তনের জন্য অভিযোগ দায়ের করেন। আসামী করা হয় আজিমুদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম মৃত- মোজাফফর হোসেনের ছেলে আব্দুল গণি এবং রফিকুল ইসলামের ছেলে সুমন আলী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত আসামীগণ ২টি নিমগাছ ও একটি পাইকড় গাছ কাটে যার মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সার্ভেয়ারকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। সার্ভেয়ার বিকাশ কুমার কবিরাজ ২৩ এপ্রিল অভিযোগ সঠিক বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে একই প্রতিবেদন দাখিল করেন রসুলপুর-পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সলিম উদ্দিন মন্ডল। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সলিম উদ্দিন বাদী হয়ে ২৫ এপ্রিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

গত ১ মে সরেজমিনে এ প্রতিবেদক তদন্তে গেলে জানা যায়, রসুলপুর মৌজা ভুক্ত আরএস খতিয়ান নং ৮৪০ এর ৮৩৯ নং দাগে রফিকুল ইসলামের বাড়ী। সেই বাড়ীর মধ্যে পায়খানা দরজার সামনে একটি ছোট নিমগাছ কেটেছে। যার আনুমানিক মূল্য হতে পারে ২ থেকে ৩হাজার টাকা। অথচ সার্ভেয়ার, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত না করে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রেবিনা বেগম বলেন, আমরা আমাদের নিজের জায়গার উপর থাকা পায়খানার দরজার সামনের একটি ছোট নিমগাছ কেটেছি। সরকারী কোন লোকজন একবারও আমাদের এখানে আসে নাই। মানিরুলের স্ত্রী হোসনে আরা বলেন, একটি ছেটি নিম গাছ তাদের নিজেদের জায়গার উপর ছিল। সেটি কেটেছে।

অভিযোগ বিষয়ে অভিযোগকারী জসিম উদ্দিনের সাথে যোগযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে সার্ভেয়ার বিকাশ কুমার কবিরাজ বলেন আমি তদন্ত করে যা পেয়েছি তাই রির্পোট করেছি। আমি দুপুরবেলা তদন্তে গিয়েছিলাম।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সলিম উদ্দিন বলেন, তদন্ত করেই রির্পোট করেছি। তবে মূল্যটা সার্ভেয়ারের রির্পোট এর উপর ভিত্তি করে দিয়েছি।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার উপর এমন মিথ্যা মামলা করায় আমার আমি আজ সর্বশান্ত। কোন সরকারী কর্মচারী তদন্ত না করে ঘরে বসে রির্পোট দিয়ে এ মিথ্যা মামলা করেছে। পুকুর রয়েছে ৮৪০ দাগে দার পরিমান ৮১ শতাংশ। আর আমি আমার বাড়ীর ভেতর যার দাগ নং ৮৩৯। আমি সেই দাগের উপর থাকা ছোট নিমগাছ কেটেছি। সেই ছোট গাছকে পুজি করে মিথ্যা মামলা করে ৩টি গাছ কাটার। অথচ এখানেই একটি খাস পুকুর জোরপূর্বক এক ব্যক্তি দখল করে ভোগদখল করছে। সেই বিষয়ে আমি গত ৩ মার্চ একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম সেই অভিযোগের কোন রির্পোট আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে