বরেন্দ্রর লিজ দেওয়া পুকুর পানি শুণ্য

প্রকাশিত: মে ২, ২০১৯; সময়: ১০:৩০ am |

ডি এম কপোত নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : প্রচন্ড খরা ও অনাবৃষ্টির কারনে এবার বরেন্দ্র অঞ্চলের শতকরা ৭০% ভাগ পুকুর পানি শুণ্য হয়ে পড়ার কারনে এবার বৃহত্তর রাজশাহী তিন জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জামি অনাবাদি রয়েছে বোরো আবাদ থেকে। কৃষিসম্প্রসারণের অভিমত এবার বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর সর্বনিম্ন একশত ফিট আবার সর্বোচ্চ প্রায় দুই শত ফিট নিচে নেমে যাবার কারনে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অধিকাংশ ডিপে পানি আসছেনা। অনরুপ অবস্থায় অন্যান্য জেলায় সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে যারা মাছ চাষের জন্য এবার পুকুর লিজ নিয়েছিল তারা মহা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। কারণ অধিকাংশ পুকুরে পানি নেই। গোদাগাড়ীর আবিলন্দা মৌজায় প্রায় দেড় শত পুকুর একেবারে পানি শুন্য হয়ে তলদেশ ফেটে গেছে। অথচ সিন্ডিকেট করে সমিতি খুলে তার নামে এইসব পুকুর লিজ নিয়েছিল। অবিলন্দা মৌজার অধিকাংশ কৃষকের অভিযোগ তারা চেষ্টা করেছিল লিজ নিয়ে মাছ চাষ ও জমিতে সেচ কাজে পানি ব্যবহার করতে। কিন্তু কোন ভাবেই টিকতে পারেনি গড়ে উঠা তথাকথিত সমিতির কাছে। ফলে যারা পুকুর ডাক করেছিল অনেক আশা করে মাছ চাষের জন্য তারা পালিয়ে গেছে পুকুর ছেড়ে। কারণ পুরো পুকুর শুকিয়ে পানি শুণ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবী তাদের কাছে লিজ দেয়া হলে তারা এইসব পুকুরে খালের পানি দিয়ে পানির ব্যবস্থা করতো। এইসব বরেন্দ্র অঞ্চলের খালকে সচল করে বিভিন্ন নদীর সাথে সংযোগ দিয়ে কৃষকেরা বিদ্যুৎ ছাড়ায় কৃত্রিম উপায়ে সেচ অব্যাহত রেখে পুকুর ভরে ফলতো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মাছ চাষ ও পুকুর পাড়ের জমি সেচের আওতায় আনা। কিন্তু বহিরাগতরা সমিতির নামে পুকুর ডাক করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ পুকুর শুকিয়ে গেছে। তারা এই মুহুর্তে কোন বাড়তি খচর করে কৃত্রিম উপায়ে পুকুর ভরতে চাচ্ছেনা। ফলে এবার বরেন্দ্র অঞ্চলের হাজার হাজার পুকুর পানি শুন্য হয়ে পড়ায় বিশাল অঞ্চল জুড়ে জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। তাদের কাছে পুকুর লিজ দিলে তারা জমি অনাবাদি ফেলে না রেখে এবারই ইরি বোরো আবাদ করতো। চাষ হতো বিভিন্ন চৈতালী ডাল জাতের ফসলের।

এবার এইসব পুকুরে বর্ষার সময়েও পানি শুন্য রাখার কৌশল, স্থানীয় কৃষকেরা নিয়েছে। কারন পুকুরে বর্ষার সময়ে যেসব নালা দিয়ে পানি আসতো তা ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছে। কৃষকদের অভিমত যেহেতু তারা পুকুরের পানি ব্যবহার করতে পারবেনা সেহেতু আমনের আমন মৌসুমেও তারা ফেলে রাখবে অনাবাদি অবস্থায় এইসব জমি।

তাই সবার দাবী উপজেলা প্রশাসন নতুন করে পূর্বের লিজ বাতিল করে পুকুর পাড় সংলগ্ন চাষীদের এইসব পুকুর লিজ দিয়ে যেমন আমন, ইরি, বোরোর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি মাছের চাষেও নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে