লোকসান হিসেব কষতে দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২; সময়: ১১:৪৯ am |

মাসুদ রানা,পত্নীতলা : মাঠে মাঠে বোরো আবাদ কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক শ্রমিকেরা। ফসল ভাল হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফলন কম, ধান ঘরে তুলতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না লাভ লোকসান হিসেব কষতে দিশেহারা কৃষক।

শষ্য ভান্ডার খাত ধান উৎপাদনের অন্যতম উপজেলা নওগাঁর পত্নীতলায় এবার বোরো ধানের আবাদ ভাল হলেও শেষ সময়ে ঈদের দিন থেকে থেমে কয়েক দফায় কাল বৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে কৃষকের বোরোর আবাদ ধান গাছ মাটির সাথে নুইয়ে পরেছে আবার নিচু জমির ধান গাছগুলো পানিতে ভাসছে এতে তাদের সোনালী স্বপ্ন ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে ।

এসব ধান ঘরে তুলতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে, তাতেও নেই প্রয়োজনীয় শ্রমিক জনবল। ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ার কারনে প্রতিমণ ধান ঘরে তুলতে শ্রমিক কে দিতে হচ্ছে ১০থেকে ১৫ কেজি কোথাও তিন ভাগের এক ভাগ আবার কোন এলাকায় অর্ধেক ধান।

খুচরা কাজের মজুরি একজন শ্রমীকের একদিনের মজুরী ৫শ থেকে ৬শ টাকা তাতেও নেই শ্রমিক। বাজারে যে ধানের মূল্য তাতে কোন লাভই থাকবে না তাদের। যাদের নিজের জমি নেই ক্ষুদ্র, প্রান্তুিক ও বর্গাচাষীরা চরম বেকায়দায়।

জমিওয়ালা ও শ্রমিক কে ধান দেওয়ার পরে তাদের ৬/৭ মণ ধান টিকছে এতে তারা কি ভাবে মহাজন শোধ করবে আবার রোপা আমণের প্রস্তুতি নিবে এই ভাবনায় দিশেহারা। প্রতি বিঘাতে হাল চাষ বীজতলা থেকে ধান রোপণ, সার কীটনাশক, নিড়ানি, ও সেচ খরচ দিয়ে প্রায় ৮ /১০হাজার খরচ পরেছে । কর্তন খরচ দেওয়া পরে তেমন লাভ থাকবে না এবার।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল চাষ হয়েছে ১৯ হাজার ৬২০ হেক্টর ।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ২ শ মেঃ টন। এবার উপজেলায় রোপন হয়েছে উন্নত ফলনশীল ব্রিধান ৫৮, ব্রিধান ৬৩ ব্রিধান ৮১,৮৪,৮৬,৮৯ জিরাশাইল, গোল্ডেন আতপ, কাঠারি, হাইব্রিড, ফাতেমা জাতের উন্নত ফলনশীল ধান ।

সরেজমিনে পত্নীতলার নজিপুর ইউনিয়নের ফহিমপুর, পদ্ম পুকুর, কাঞ্চন, নাদৌড় মাঠ ঘুরে দেখা যায় ধান ক্ষেতে ধানের গাছ গুলো মাটির সাথে মিশে আছে অনেক গাছ আওলা ঝাওলা আবার কিছু জমিতে পানির উপর ভাসছে ধান গাছ। অনেক কৃষক জমি থেকে ধান তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

একাধিক কৃষক জানিয়েছে ধানের ফলন এবার ১৬ থেকে ২০ মণ ই বেশী হচ্ছে কারো কারো এর নিচে ও হচ্ছে। এবার তাদের কোন লাভ থাকবে না আবার অনেকেরই হবে লোকসান তার উপরে শ্রমিকের সংকট। ধান গাছ মাটিতে পরে যাওয়ায় প্রতি বিঘায়য় ৪ থেকে ৫ মণ ফলন কম হচ্ছে বলে কৃষকের ধারনা ।

স্থানীয় বাজারে এসব ধান বিক্রি হচ্ছে জিরা ৮শ ৫০ থেকে ৯৫০ কাটারি ৯শ থেকে ১ হাজার ৫০ গোল্ডেন আতব ধান ১৪শ থেক ১হাজার ৫শ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পত্নীতলা বালুঘা এলাকার কৃষক পরিতোষ বর্মণ জানান সে আট বিঘা জমিতে জিরা জাতের ধান আবাদ করেছেন সব ধান গাছ ঝড়ে মাটিতে পরে গেছে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

পুঁইয়া গ্রামের কৃষক অলোক কুমার বলেন তিনি ২১ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন তিন বিঘা জমির ধান কটা হয়েছে প্রতি বিঘায় ২৩ মণ হারে ফলণ হয়েছে। প্রতি মণে ১১ কেজি ধান দিতে হয়েছে শ্রমিককে মাড়াইয়ের জন্য মণ প্রতি ১ কেজি। যা গত বছর প্রতি মণে ৫ কেজি ছিল এবার দিগুনেরও বেশী। কাল বৈশাখী ঝড়ে তার সব ধান মাটির সাথে নুইয়ে পরেছে এজন্য শ্রমিক খরচ বেশী তারপরও শ্রমিক মিলছেনা আরও ১৮ বিঘা ধান মাঠে পড়ে আছে।

উপজেলার নাদৌড় গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ, হাবিবুর, শামসুল, রুবেল, মোতাহার, সুকুমল সহ একাধিক কৃষক জানান ধানের ফলন এবার কম হচ্ছে ধান মাটিতে শুয়ে পরার কারনে প্রতি মণে ১০ / ১৫ কেজি দিতে হচ্ছে এবার লাভ হবে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট থেকে ধান কাটতে আসা শ্রমিক সরদার হাকিম বলেন তাদের এলাকা আমের চাষ বেশী তাই এই সময়ে তারা এদিকে ধান কাটতে আসেন তারা গত বছর প্রতি মণে ৫ কেজি নিয়ে যে পরতা ছিল এবার ১০ কেজিতেও সেই পরতা হচ্ছে না কারন ধান মাটিতে পরে থাকার জন্য সময় বেশী লাগছে আগের বছর যে সময়ের মধ্যে ২ বিঘার জমির ধান কাটা হয়েছে এবার সে সময়ে ১ বিঘা বা তার কম জমির ধান কাটতে পারছে।

ধানের দাম বৃদ্ধি, কৃষি ও কৃষককে ভূর্তকির আওতায় এনে তাদের সরকারি সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে এমন টায় দাবী সুধি মহলের।

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারন অফিসার মোহাইমেলুন ইসলাম জানান ৮০% ধান পাকলেই দ্রুত ধান কেটে ফেলতে হবে এখন পর্যন্ত ১৭শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। ১৮ থেকে ২৪ মণ ফলন হচ্ছে। ঝড়ে প্রায় ২০ শতাংশ ধান মাটিতে নুইয়ে পরছে। সামনে ঘূর্ণি ঝড়ের আশঙ্কা আছে তাই দ্রুত ধান ঘরে তুলতে হবে । শ্রমিক সংকট আছে কেবল ধান কাটা শুরু হয়েছে বাহিরে থেকে শ্রমিক আসা শুরু হয়েছে দু চার দিন গেলে আর শ্রমিক সংকট থাকবে না

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে