ফ্যাকাশে হতে বসেছে কৃষকের ঈদ আনন্দ

প্রকাশিত: মে ১, ২০২২; সময়: ১২:১৮ pm |

অদ্বৈত কুমার আকাশ, নন্দীগ্রাম : শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার উপর দিয়ে মাঝে মাঝেই বয়ে যাচ্ছে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি। কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই এ উপজেলার কৃষকের জমির ধান মাটিতে নুয়ে পরেছে।

এরপর মাঝে মাঝে যে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে তাতে কৃষকের নিচু জমিতে পানি জমে ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এর সাথে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট। এ এলাকার কৃষকরা সব মৌসুমেই জমি লাগানো ও কাটা-মাড়াইয়ের জন্য উত্তর অঞ্চলের শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল। সেই শ্রমিকদের দেখা এখনও মিলছেনা।

এতে নন্দীগ্রামের কৃষকেরা সোনালী ফসল ঘরে তোলা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছে। শুধু তাই নয় কৃষকদের ঈদ আনন্দ ফ্যাকাশে হতে বসেছে ইরি-বোরো ধান ঘরে তোলার চিন্তায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, এ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৯ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৬৩২ মেট্রিক টন ধান।

উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির কারণে জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। এ ধানগুলো কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। এখন ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়া গেলে ধান জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে।

ভাটরা ইউনিয়নের নাগরকান্দি গ্রামের কৃষক সুবল চন্দ্র বলেন, আমি এবার ৫০ বিঘা জমিতে ইরি ধানের চাষ করেছি। ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধানের যে ক্ষতি হয়েছে এখন মাঠে ধান থাকায় তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরেও ধান কাটার শ্রমিক মিলাতে পারচ্ছিনা। যে দুই-এক জন কৃষক শ্রমিক পাচ্ছে, ধান কাটার দাম দিতে হচ্ছে ৬-৭ হাজার টাকা বিঘা।

ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন জানান, ধান পরে গিয়ে যে ক্ষতি হয়েছে এখন পানিতে থেকে তার চেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে। ধান কাটার মানুষ নাই। আবার সামনে ঈদ। আমি বুঝতেই পারছিনা কি করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে এ উপজেলার ১৩৬ হেক্টর ধানের জমির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। আমরা কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করছি। বিভিন্ন ভাবে তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জমিতে পানি থাকলে তা দ্রুত বেড় করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সামনে ঈদ তাই শ্রমিকের সংকট হচ্ছে। ঈদের পর হয়তো শ্রমিকের সংকট দূর হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে