গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর বুকে জেগে উঠা চরে তৈরি হচ্ছে ধান বীজ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২২; সময়: ৭:০০ pm |
খবর > কৃষি

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। বর্ষার সময়ে নিজ রূপে ফিরে আসলেও তা স্থায়ীত্ব থাকে না বেশি দিন। সেই পদ্মার বুকে জেগে উঠা চর। আর তাতেই চলে কৃষি চাষাবাদ। কৃষকরা তৈরি করেছে বোরো ধানের বীজতলা।

জেগে উঠা পদ্মার চর ভরে গেছে ধানের বীজ তলায়। আবাদী জমিতে বীজতলা তৈরি করতে খরচ বেশি হয়। এছাড়াও বীজতলা তৈরি জমির সংকটও দেখা দেয়। কিন্তু পদ্মা নদীর বুকে জেগে উঠা চরে বীজতলা তৈরি করতে খরচকম ও বীজ ভালো হয়। তাই কৃষকরা পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে তৈরি করেছে বীজতলা। পদ্মা যেন তার বুকে সবুজের বিছানা পেতে রেখেছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত ৬৮০ হেক্টর বীজতলা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা তৈরী করেছে বীজতলা। গত বছর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২৫ হেক্টোর। কৃষি অফিস বলছে এবার বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি অফিস আরো জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। গত বছর এ মৌসুমে বোরোধান চাষ হয়েছিল ১৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর। কৃষকরা ধানের দাম ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমে ধান চাষ গত মৌসুমের তুলনায় বেশি হবে। পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে বীজতলা তৈরি করা উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আবাদী জমিতে চাষ, পানি ও সার দিয়ে ধানের বীজতলা তৈরি করতে হয়। এতে খরচ হয়। কিন্ত পদ্মার চরে বীজতলা তৈরি করতে চাষ, পানি ও সার দিতে হয় না। তাতে খরচ কম হয়।

এমনকি আবাদী জমির চাইতে পদ্মার চরে ধানের বীজ ভালো হয়। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ পরিচালক তৌফিকুর রহমান বলেন, পদ্মার বুকে চর জেগে উঠাতে যারা বর্গা নিয়ে জমি চাষ করে তাদের মধ্যে অনেকের বীজতলা তৈরির জায়গা থাকে না। নদীর বুকে চর উঠায় বীজতলা তৈরির জায়গা সংকট থাকে না। বিশেষ করে নদীর বুকে বীজ বোপন করলে পানি দেয়া লাগেনা। এতে করে কৃষকরা বেশি লাভবান হয়ে থাকে। আর এই নদীর বুকে বীজতলা গুলোর দৃশ্য সবার নজর কাড়ছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে