গোদাগাড়ীতে ধানে পচন ও পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২১; সময়: ৭:০৪ pm |

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে শেষ মুহুর্তে আমন ধানে পচা ও বাদামী ফড়িং (ফুদকি) পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আমন ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের অনেক ধান ক্ষেত কারেন্ট পোকার আক্রমণে পুড়ে যাচ্ছে। আমন ধান গাছগুলো আগুনে যেন ঝলসে চুপসে গেছে। এতে করে আমন ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, ধান ক্ষেতের মড়ক প্রতিরোধ করতে না পারলে আমরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। বাজারের কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আমন চারার গোড়াই পচন রোগ ও ধান গাছের বিভিন্ন অংশে বাদামী ফড়িংয়ের আক্রমণ দেখা পর থেকেই কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু খোল পচা রোগ ও বাদামী ফড়িং পোকা দমন হচ্ছে না।

গোদাগাড়ী ইউনিয়নের শামলার কৃষক আবু বাশির বলেন, ৩ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছে। এর মধ্যে ২বিঘা জমিতে রোপনকৃত ধানে বাদামী ফড়িং পোকা আক্রমণ করেছে। কীটনাশক ব্যবহার করে পোকা দমন হচ্ছে না। কৃষক আজাহার উদ্দীন বলেন গত ৫ সপ্তাহ আগে আমনে পোকা দেখা দিলেও কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাওয়া না যাওয়ায় বিক্রেতাদের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করে কোনও কাজ হচ্ছে না।

শামলার আরেক কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, আমার এক বিঘা জমিতে ধান গাছের গোড়াই পচনে লালচে হয়ে ধানের চারা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও ধান গাছের বিভিন্ন অংশে বাদামী ফড়িং পোকার আক্রমনের কারণে গাছের চারার রস কমে গিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এসব আমন ধানের গাছে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার ও কীটনাশক স্প্রে করে লাভ না হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় আমনের চাষ হয়েছে ২৪ হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমিতে। গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, পোকা দমনে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে