গুরুদাসপুরে শেষ সময়ে রোপা আমন ধানের চারা সংকট

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২১; সময়: ৫:২৪ pm |
খবর > কৃষি

নিজস্ব প্রতিবদেক, গুরুদাসপুর : নাটোরের গুরুদাসপুরে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খেত-খামারে পানি জমেছে। এসুযোগে শেষ সময়ের জমি প্রস্তুত ও রোপা-আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন গুরুদাসপুর উপজেলার কৃষকরা। তবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা পড়েছেন চারা সংকটে। চাহিদা মেটাতে হাট-বাজার থেকে বেশি দামে চারা কিনে রোপণ করছেন অনেক কৃষক।

প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা বলছেন, চারা সংকটের কারণ বাংলা সনের আষাঢ় ও শ্রাবণ পেরিয়ে গেলেও কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গৃহস্থ পর্যায়ের কৃষক শ্যালো মেশিনে সেচযন্ত্র দিয়ে বীজতলা তৈরি করে,জমি প্রস্তুতের পর চারা রোপণ করতে পেরেছেন। পক্ষান্তরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের পক্ষে বীজতলা তৈরি সম্ভব হয়নি। এতে করে সময়মতো জমি প্রস্তুত করতে পারেননি এসব কৃষক।

শ্রাবণের শেষ সপ্তাহ থেকে মাঝারি এবং ভ্রাদ্রের শুরুতে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে খেত-খামারগুলোতে বৃষ্টির পানি জমেছে। একারনে শুরু হয়েছে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ। এক সাথে জমি প্রস্তুত করতে গিয়ে দেখা দিয়েছে রোপা আমনের চারা সংকট। বাড়তি চাহিদা মেটাতে স্থানীয় হাট-বাজার থেকে বেশি দামে চারা কিনে রোপণ করতে হচ্ছে। এই সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির মানুষ বগুড়া, জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলা থেকেও চারা সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন। নিরুপায় হয়েই কিনতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া চারার মান নিয়েও সংশয়ে পড়েছেন কৃষক।

গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় হাটে গিয়ে দেখাগেছে একমুঠো ধানের চারা ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বিগত বছরগুলোতে একমুঠো চারা বিক্রি হয়েছে ১টাকা থেকে ১টাকা ৫০ পয়সায়। তার পরও হাটে চারা আমদানীর বিপরীতে ক্রেতার সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

গুরুদাসপুর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের বর্গাচাষি আব্দুল খালেক জানান, এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে জমি প্রস্তুত করেছেন। চারার জন্য হাটে এসেছেন তিনি। কিন্তু দাম শুনে চোখ কপালে উঠার অবস্থা তাঁর। বাধ্য হয়ে ৩ টাকা করে ২৮৪ মুঠো চারা কিনেছেন। আরেক কৃষক হাসান আলী বলেন ৩০ কেজি ধানের বীজতলা করেছিলেন। কিন্তু কাঙ্খিত বৃষ্টিপাতের অভাবে বীজতলা থেকে কাঙ্খিত চারা গজায়নি। বাধ্য হয়ে হাটে এসেছেন চারা কিনতে। কিন্তু দাম বেশি।

বড়াইগ্রাম উপজেলা থেকে আসা চারা বিক্রেতা সাজদার হোসেন ও আমির হোসেন জানান, এবছর বর্ষার গতিবিধি বুঝে অপেক্ষাকৃত উঁচু দুই বিঘা জমিতে ব্রি-৭ জাতের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। এক বিঘা জমির বীজতলার চারা ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। এসব চারা গুরুদাসপুর ছাড়াও বড়াইগ্রাম, সিংড়া পাবনার চাটমোহর ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় গিয়ে বিক্রি করছেন তিনি।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলায় চারার সংকট নেই। তবে চলনবিল কেন্দ্রিক আশপাশের উপজেলা থেকে কৃষক চারা সংগ্রহ করায় চারার দাম বেড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে গুরুদাসপুর উপজেলায় উফশি ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর স্থানীয় জাতের ৩৮০ হেক্টর ও হাইব্রীড ৫০ হেক্টরসহ ৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। এসব জমির বিপরীতে বীজতলা তৈরি হয়েছে ২৭০ হেক্টর জমিতে। এই বীজতলা থেকে কৃষকের চাহিদা মেটার কথা। তাছাড়া আগামী ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত চারা রোপনের সময় রয়েছে।

  • 101
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে