চলনবিলের আড়তে প্রতিদিন কোটি টাকার লিচু বিক্রি

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২১; সময়: ১২:৩৫ pm |

নূর ইসলাম রোমান, তাড়াশ : চলনবিল এলাকায় এ বছর লিচু গত বছরের তুলনায় ফলনে কম হলেও খুচরা ও পাইকারী বাজারে কৃষক ভালো দাম পাওয়ায় কেনাবেচা জমে উঠেছে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী লিচু বিক্রির আড়ত এখন জমজমাট। আড়তগুলোতে প্রতিদিন কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম সিংড়া, পাবনার চাটমোহর ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার লিচুর আড়তে সব মিলে গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার লিচু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

এরই মধ্যে চলনবিল অধ্যুষিত নাটোর জেলার গুরুদাসপুর, সিংড়া, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর বটতলা, মামুদপুর, নাজিরপুর, মশিন্দা, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নাদোসৈয়দপুর, ধামাইচ হাট এলাকার ১২-১৫টি লিচুর আড়তে খুচরা ও পাইকারী দরে কেনাবেচা জমে উঠেছে।

স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, লিচুর আবাদে সহনীয় তাপমাত্রার চেয়ে এ বছর বেশি গরম থাকায় অনেকের কৃষকের বাগানের লিচু ফেটে নষ্ট হযেছে। তারপরও বোম্বাই, চায়না-৩ ও মোজাফ্ফর জাতের লিচুর ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে।

বেড়গঙ্গারামপুর লিচু ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সভাপতি হাজী সাকায়াত হোসেন মোল্লা জানান, গত সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৭৫টি ট্রাক বোঝাই করে রাজধানী ঢাকাসহ পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঈাইল, চট্রগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, হবিগঞ্জসহ অভ্যান্তরীণ অনেক জেলা থেকে আসা লিচু ক্রেতা পাইকাররা চলনবিলের আড়ত থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

চলনবিলের আড়তগুলোতে চলতি সপ্তাহে লিচু আকার, রঙ ও মানভেদে ভালো মানের প্রতি এক হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৭০০-১৯০০ ও মাঝারি মানের ১৫০০-১৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

তবে চলনবিল এলাকার লিচু চাষী মো. সাহাবর মন্ডল জানান, এ বছর খড়ার কারণে অনেক গাছের লিচুর রঙ জ্বলে গেছে। তাই অনেক চাষী এ কারণে ভালো দাম পাচ্ছেন না।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনর রশীদ বলেন, চলনবিলে গত এক দশকে লিচুর আবাদও প্রসারিত হয়েছে। আর চলতি বছর তাপমাত্রা কিছু বেশি থাকায় প্রথম দিকে লিচুর সামান্য সমস্যা হলেও চলনবিলের কৃষক পাইকারী ও খুচরা বাজারের আড়তে লিচুর ভালো দামও পাচ্ছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে