আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে বিএমডিএ

প্রকাশিত: মে ৫, ২০২১; সময়: ৩:৩৯ pm |
খবর > কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের শস্য ভান্ডার উত্তরাঞ্চল তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আশির দশকে শুধুমাত্র বৃষ্টি নির্ভর ফসলকে কেন্দ্র করে বরেন্দ্র অঞ্চলের জনগণ জীবন যাপন করতো। বরেন্দ্র অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৫ সালে বিআইএডিপি প্রকল্প গ্রহণ করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচের সুব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিএমডিএ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে গভীর নলকুপের মাধ্যমে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাওয়ায় অতিরিক্ত ফসল উৎপাদিত হচেছ।

বরেন্দ্র অঞ্চলে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল- খাড়ী খনন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প ক্রসড্যাম প্রকল্প, পাতকুয়া স্থাপন প্রকল্প, ড্রেন, স্লুইচ গেট নির্মাণ, ভু-গর্ভ’ সেচ নালা নির্মাণ, বনায়ন প্রকল্প কৃষকের ভাগ্যের আশাতীত পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি মজা খালগুলো পুনঃ খননের লাখ লাখ কৃষকের সৌভাগ্যের দ্বার খুলে দিয়েছে। বর্তমানে সঠিক সময়ে বোরো চাষ হচ্ছে। আর শুষ্ক মৌসুমে আমন, আউশ বোরো ধান চাষের জন্য কৃষকদের বৃষ্টির উপর নির্ভর করতে হয়না।

বর্তমানে রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট ও পবা উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প শেষ হয়েছে। ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও পবা উপজেলার জনগণ এর সুবিধা ভোগ করছে। এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুন মাসেই সম্পন্ন হবে।

অফিস থেকে জানা গেছে, প্রকল্প এলাকায় ১০৫০ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা নিরসনপূর্বক আবাদি জমি বৃদ্ধি এবং ৩৫০ হেক্টর জমির সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের ফলে ১৪০০ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে ৭৭০০ মে. টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন হচ্ছে। পুনঃ খননকৃত খালে ভূ-পরিস্থ পানির সংরক্ষণ, সেচ কাজে ব্যবহার ও ভূ-গর্ভস্থ পানির রিচার্জ বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। পাতকুয়া খননের মাধ্যমে কম পানিগ্রাহী ফসলের চাষ ও ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিমাত্রা ব্যবহার কমে গেছে। এছাড়াও সেচ কাজে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার হচ্ছে ও বনায়ন নীতিমালার আলোকে বৃক্ষরোপন করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রায় আড়াই কিঃমিঃ খাল/খাড়ী পুনঃ খনন করা হয়েছে। ৪০৩৫ মিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ৮টি লাইট কালভার্ট, ৭ টি ফুটওভার ব্রীজ ও ১ টি সুইচগেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ। ২০ টি পাতকুয়া খনন, পানি বিতরণ ব্যবস্থা নির্মাণ ও সৌরশক্তি চালিত পাম্প স্থাপন। ১০ টি ২.০ কিউসেক সৌরশক্তি চালিত এলএলপি পাম্প স্থাপন। প্রায় ৮হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও ওষুধি বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার চাঁদপুর বিল, মুর্শেদপুর বিল, বেলঘরিয়া বিল, রাওথা বিল, মেরামতপুর বিল, কাঁকড়ামারি বিল, শাহাপুর বিল, মহেন্দ্রা বিল, ছত্রগাছা বিল সংস্কার করা হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছে এসব এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে