পত্নীতলায় বোরো ধানের রেকর্ড পরিমাণ ফলন

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২১; সময়: ১:৫৪ pm |
খবর > কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পত্নীতলা : নওগাঁর উত্তরে ভারতের সীমান্ত ঘেষা উপজেলা পত্নীতলা, এখানে শুরু হয়েছে বোরো ধানের কাটা মাড়া। কৃষকের মুখে এক চিলতে হাসিই জানান দিচ্ছে তার ঘরে এসেছে আনন্দের নতুন বারতা।

গ্রীষ্মের তাপ দাহ আর প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করে ধান কাটমাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকেরা। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে যা বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। বাজারে ভাল দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে।

তবে অনেক কৃষক জানান প্রথমে দাম ভাল থাকলেও পরে দাম কমে যায়, বর্তমান বাজার মূল্য যদি স্থায়ী থাকে তারা খুশি।

জানা যায়, স্থানীয় বাজারে নতুন ধান প্রতি মণ গোল্ডেন আতব ১২ শ কাটারী ৯৫০, জিরা ৯০০ টাকা, ৮১ জাতের ৮৫০ টাকা দরে বিক্রী হচ্ছে। এক সপ্তাহর ব্যবধানে সব ধানে মণ প্রতি ১০০ কমেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে হয়েছে বোরো ধানের চাষাবাদ। এবার রোপন হয়েছে উন্নত ফলনশীল ব্রিধান ২৮, ২৯, ৫, ৬৩, ৮১, ৮৪, ৮৯ জিরাশাইল, গোল্ডেন আতপ, কাটারি, হাইব্রিড জাতের ধান।

এখন পর্যন্ত ২০% ধান কাটা মাড়াই হয়েছে। মাঠ থেকে ধান ঘরে তুলতে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে দূরত্ব অনুযায়ী প্রতি মনে ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত।

কয়েক জন শ্রমিক জানান তাদের প্রতি দিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত এতে তাদের প্রতিদিন ইনকাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। তবে নারী শ্রমিক লিমা জানান তাদের এই আয় ২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। ধান কাটা শেষ হলে আবার বসে থাকতে হবে।

উপজেলার বাদপুইয়া গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন জানান তিনি ০৪ বিঘা জমিতে জিরা ধান আবাদ করেছেন, প্রতি বিঘাতে ২৬ মণ হারে ফলন হয়েছে। গাহন গ্রামের জুয়েল হোসেন জানান তিনি ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। ৩ বিঘা জমির ধান কাটা মাড়াই করেছেন প্রতি বিঘাতে ২৭ মণ হাড়ে ফলন হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলার একাধিক কৃষক জানান এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যানা যায় চলতি বোরো মওসুমে সরকারি ভাবে ২৬৮৯ মেঃ ট্রঃ ধান সংগ্রহ করা হবে, দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ২৭ টাকা এবং প্রতি মণ ১০৮০ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রকাশ চন্দ্র সরকার জানান এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বিগত বছরের সকল রেকর্ড কে পেছনে ফেলেছে। ৮০% ধান পাঁকলেই ধান মাঠ থেকে কর্তন করতে হবে কারন ঝড় বৃষ্টি হলে লেবার কষ্ট বেড়ে যাবে। ধানের দামও কমে যাবে। বাজারে দামও ভাল আছে ধান স্টক করার প্রয়োজন নেই।

  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে