মান্দায় শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার উৎসব

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২১; সময়: ১:৫৯ pm |
খবর > কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : উত্তরাঞ্চলের শস্য ভান্ডার নামে পরিচিত নওগাঁর মান্দা উপজেলার মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার উৎসব। নিচু অঞ্চলের এক ফসলী জমিতে আগাম লাগানো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষক পরিবারে। ইতোমধ্যে অন্তত ২০০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল হওয়ায় স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ভারশোঁ, তেঁতুলিয়া, মান্দা, পরানপুর, কশব, কাঁশোপাড়া ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের এক ফসলী জমিতে বোরো ধানের আগাম চাষ হয়ে থাকে। আগাম লাগানো সেই ধানগুলো জমিতে হলুদবরণ ধারণ করেছে। এসব ইউনিয়নের মাঠগুলোতে এখন আর নেই সবুজের সমারোহ। এখন সেখানে দোল খাচ্ছে ধানের সোনালী শীষ।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রায় চেয়ে ২৪০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল হীরা, তেজ, গোল্ড জাতের চাষ হয়েছে ২ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। সরকার হাইব্রীড জাতের ওপর প্রণোদনা দেওয়ায় গতবছরের তুলনায় ৮২৫ হেক্টর বেশি জমিতে এ ধানের আবাদ করেছেন কৃষকরা। এছাড়া এবছর ব্রি ধান-২৮ ও জিরাশাইল ধানের চাষ বেশি হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের মহানগর, বিলউথরাইল ও তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কুরকুচি বিল ঘুরে কৃষকদের চরম ব্যস্ততা দেখা গেছে। কুরকুচি বিলের কৃষক এনামুল হক ও আয়েজ উদ্দিন মৃধা, বিলউথরাইল বিলের কৃষক সাহাবুর গাইন ও আফসার আলী, মহানগর মাঠের কৃষক এরসাদ আলী জানান, ধানের চারা রোপণের পর থেকে আবহাওয়া অনুকুল ছিল। সেচকাজে কোনো রকম বিঘ্ন ঘটেনি। পচন ও নেকব্লাস্ট রোগের আক্রমণ তেমন নেই। এজন্য জমিতে দফায় দফায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি।

এসব মাঠের কৃষকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুল থাকায় দোর গোড়ায় তাদের স্বপ্নের ফসল। এখন শুধু কাটা-মাড়াই করে ঘরে তোলার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন জানান, উপজেলার নিচু অঞ্চলগুলোতে আগাম লাগানো ধানের কাট-মাড়াই শুরু হয়েছে। চারা রোপণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুল রয়েছে। ধানখেতে রোগ-বালাই কম ছিল। তবে বর্তমান সময়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলেও খেতে তেমন প্রভাব পড়েনি।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ আবাদ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে