চলনবিলে বেড়েছে পাটের আবাদ

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১; সময়: ২:৫৩ pm |
খবর > কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাড়াশ : চলনবিলের হাট-বাজারে সোনালী আঁশ পাটের দাম বেড়ে গেছে। সেই সাথে পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসায় চলতি বছর চলনবিল অঞ্চলে পাটের আবাদ ব্যাপক হারে বেড়েছে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলনবিল অঞ্চলের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর ,নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও নওগাঁর আত্রাই এলাকায় এ বছর প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০০ হেক্টর বেশি।

বর্তমানে চৈত্র মাসের শুরুতেই চলনবিল এলাকায় পাটচাষিরা তাদের জমিতে রবি ১, তোষা ও দেশি জাতের পাট চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাড়াশের পাটচাষি হেকমত আলী, জুব্বার প্রাং, ফরিদ হোসেন নাটোরের গুরুদাসপুর এলাকার কৃষক হালিম শেখ, তোবারক হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে হাট-বাজারে সোনালী আঁশ পাটের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাট সহনীয় ফসল। যে আবাদে কৃষক অল্প খরচে চার মাসেই ফসল ঘরে তুলতে পারেন। এসব কারণে বিগত তিন-চার বছরে চলনবিল অঞ্চলে পাটের আবাদের অল্প অল্প করে জমি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

অপরদিকে চলনবিলের প্রসিদ্ধ পাটের হাট নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার চাচঁকৈড়, কাছিকাটা, মৌ খাড়া, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা চান্দাইকোনা উল্লাপাড়ার পাট বন্দর এলাকার পাটের হাটসহ বিভিন্ন হাট বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছে ৪৫০০ থেকে ৪৭০০ টাকায়।

গুরুদাসপুর উপজেলার চাচঁকৈড় হাটে আসা নারায়ণগঞ্জ এলাকার পাট ক্রেতা মহাজন আলহাজ আলী, কফিল সদাগর, কিসমত আখন্দ জানান, গত বছর এ সময়ে চলনবিল এলাকার হাট বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছে তিন হাজার থেকে তিন হাজার পাঁচশ টাকায়। অথচ এ বছর তা ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।

মূলত বিগত বছরগুলোতে পাটের ভালো দাম না পাওয়ায় চলনবিলের কৃষক পাট চাষে অনীহা দেখালেও গত দুই বছরে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় আবারও চলনবিল অঞ্চলের কৃষক পাটের আবাদে মনোনিবেশ স্থাপন করেছেন বলে জানান পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা এলাকার কৃষক রবিউল করিম।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন্নার লুনা বলেন, চলনবিল অঞ্চলে পাটের আবাদের জমি বেড়েছে। এর কারণ গত প্রায় দুই বছরে পাট চাষিরা পাটের ভালো দাম পাচ্ছেন। তাছাড়া কৃষি বিভাগ পাট চাষে স্থানীয় কৃষকদের সাধ্যমতো সরকারী সুযোগ সুবিধাও পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে