চাহিদামতো সেচ চার্জ না পাওয়ায় জমিতে যাচ্ছে না পানি

প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২১; সময়: ৬:৫১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুরে গভীর নলকুপ (সেচপাম্প) অপারেটরকে চাহিদা মতো সেচ চার্জ না দেয়ায় কৃষকদের বোরো আবাদের জমিতে পানি দেয়া হচ্ছে না। গত ৮ দিন থেকে জমিতে পানি না দেয়ায় মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে। উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সাদাপুর গ্রামের মাঠের এমন অবস্থা। প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় কৃষকরা যে কারো কাছে অভিযোগ নিয়ে যাবে সেই সাহসও পাচ্ছেন না।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সাদাপুর (খড়িবাড়ী বাজারের উত্তরে) গ্রামের মাঠে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি গভীর নলকূপ (সেচপাম্প) আছে। যেখানে প্রায় ৪০/৪৫ কৃষকের ১শ ৬৩ বিঘা ফসলি জমি রয়েছে। গত কয়েক বছর থেকে গভীর নলকূপের অপারেটর বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীরীগের সভাপতি ও সাদাপুর (খড়িবাড়ী)র নূরুন নবী তাঁর নিজের চাহিদা মতো ১ হাজার ৩শ ৫০ টাকা করে কোনো নিয়মকানুন ছাড়াই কৃষকদের কাছ থেকে সেচ চার্জ নিয়ে আসছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে এ সেচ চার্জ দিয়ে আসছেন।

 

চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরে বোরো মৌসুমে বিএমডিএ (বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)’র গভীর নলকূপ সমিতি ভিত্তিক পরিচালনা করার কোন নিয়ম না থাকলেও সাদাপুর গ্রামের এই গভীর নলকূপের অপারেটর নূরুন নবী স্বেচ্ছাচারীভাবে গত তিন বছর যাবত সমিতির মত প্রতিটি কৃষকদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৩শ ৫০ টাকা করে তুলে পরিচালনা করে আসছেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনী। এবারও প্রতিটি কৃষকদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৩শ ৫০ টাকা করে আদায় করে সেচ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এক সপ্তাহ যাবত সেচ বন্ধ করে দিয়েছে। অপারেটরের দাবী আরো টাকা দিতে হবে।

 

কৃষকরা তাঁর দাবি মেনে না নেয়ায় ৮ দিন থেকে অধিকাংশ জমিতে পানি দেয়া হয়নি। জমিতে পানি না দেয়ায় মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে জমিতে রোপণ করা কচি চারাগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। চারাগুলো মরে গেলে কৃষকদের অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। ফসল রক্ষার্থে কয়েকজন কৃষক, নিজে সেব কার্ডে টাকা তুলে নিজ দায়িত্বে জমিতে পানি দিয়েছে।

কৃষক রবিউল ইসলাম, বাবুল ও শামসুল বলেন, এই বছর এ আমরা বিঘা প্রতি ১ হাজার ৩শ ৫০ টাকা করে সেচ চার্জ দিয়েছি। তারপরেও কোন হিসাব না করেই অপারেটর পানি বন্ধ করে বলে আরো টাকা না দিলে আবাদ তুলতে পারবো না। টাকা দিলে পানি দিবো। অনুরোধ করেও কোন কাজ হয়নি। অপারেটর নূরুন নবী বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও এলাকার ত্রাস। তাই আমরা ভয়ে কোন কথা বলতে পারছি না। কোথাও কোন অভিযোগ দেই নি। সে এখন আরো ২শ ৫০ টাকা করে দাবী করে। যদি কোন বিচার আমরা না পাই তাহলে ধান বাঁচাতে নিরুপায় হয়ে তাঁর দাবী আমাদের মেনে নিতে হবে।

 

কৃষক সামসুল বলেন, আমি এই স্কীমে সাড়ে ১২ বিঘা আবাদ করেছি। বিঘা প্রতি ১ হাজার ৩শ ৫০ টাকা দিয়েছি। তারপরেও পানি বন্ধ করে দিয়েছে। আরো বিঘা প্রতি ২ শ ৫০ টাকা চায়। যা আমার পক্ষে সম্ভব না। এই সময় ধান গামড় হয়ে ধান বের হওয়ার সময়। কিন্তু এখন চারাগুলো শুকিয়ে হলুদ ভাব দেখা দিয়েছে। অপারেটর জমিতে পানি দিবে না বলে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।

অপারেটর নূরুন নবী বলেন, এবার কয়েকবার মর্টার পুড়ে গেছে। আমার ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে মর্টার মেরামত করতে হয়। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কোন খরচ বহন করেন না। তাই ১ হাজার ৩শ ৫০ টাকায় আবাদ তোলা সম্ভব নয়। কোন উপায় না পেয়ে প্রত্যেক কৃষকদের বলে দিয়েছি বিঘাপ্রতি আরো ২শ ৫০ টাকা করে দিতে হবে। সেচ বন্ধ প্রসঙ্গে বলেন, কয়েকদিন বন্ধ রেখেছি।

 

সহকারী প্রকৌশলী (বিএমডিএ) মতিউর রহমান বলেন, আমার কাছে এ রকম কোন অভিযোগ আসে নাই। আপনার মাধ্যমেই জানলাম। আমাদের গভীর নলকূপের সমিতি ভিত্তিক পরিচালনার কোন নিয়ম নেই। তাই সেচ চার্জ এর রেটেরও কোন কিছু নেই। তবে কোন গভীর নলকূপ যদি সমিতি ভিত্তিক পরিচালনা করে তাহলে সেই স্কীমের কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতে। হিসাব নিকাশ ঠিক রেখে। যেহেতু আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে