‘কৃষি জমি ফেলে রাখলে সরকার নিয়ে নেবে’

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২০; সময়: ১২:৪২ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কোন জমি পতিত রাখা যাবেনা। কৃষি জমি পতিত রাখা আইনের চোখেও একটি অপরাধ। এরপরেও যদি কোনো ব্যক্তি তার জমি কৃষিকাজে ব্যবহার না করে পতিত রাখেন, তাহলে উক্ত জমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত আইন ১৯৫০ এর ৯২(১) ধারা মোতাবেক খাসকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

জানা গেছে, সম্প্রতি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ধরনের অনুষ্ঠানে তিনি কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশনাও দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে আমলে নিয়ে কয়েকটি জেলা প্রশাসন নিজ এলাকায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে, ‘আবাদী জমি ফেলে রাখলে তা খাসজমি হিসেবে খতিয়ানভুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি চিঠি পাঠিয়েছেন গত মাসের শুরুতে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “…যে সমস্ত ভূমি মালিকগণ তাদের জমি অনাবাদী/পতিত ফেলে রাখছেন বা রেখেছেন তাদের জমি ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত আইনের ৯২ ধারা মোতাবেক ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত করার আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

একই ধরনের একটি ‘গণবিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকও। এতে বলা হয়েছে, “…কোন জমি পতিত রাখা যাবেনা। কৃষি জমি পতিত রাখা আইনের চোখেও একটি অপরাধ। এরপরেও যদি কোনো ব্যক্তি তার জমি কৃষিকাজে ব্যবহার না করে পতিত রাখেন, তাহলে উক্ত জমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত আইন ১৯৫০ এর ৯২(১) ধারা মোতাবেক খাসকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।”

এ সম্পর্কে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন বলছেন, ‘তাদের মূল বিষয় হলো প্রত্যেকটি জায়গা যেন আবাদের আওতায় চলে আসে। মানুষের জমি কেড়ে নেয়া সরকারের উদ্দেশ্য না, উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেকটি জমি যেন ফসলের আওতায় চলে আসে। কারণ এ মূহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

কি প্রক্রিয়ায় জমি সরকার নেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে তার বক্তব্য শোনা হবে যে, কেন তিনি জমি ফেলে রেখেছেন। তার বক্তব্য শুনে বিবেচনায় নেয়ার মতো হলে সেটি গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার জমি এভাবে নিলেও পরে তা ভূমিহীনদের মধ্যেই বিতরণ করে থাকে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, “কৃষি জমি দীর্ঘদিন ফেলে রাখার অধিকার জমির মালিকের থাকে না। কেউ যদি কৃষিজমি অনাবাদী রাখে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা খাস খতিয়ানভুক্ত হবার আইন আছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা নানাভাবে সহায়তা করছি। এরপরেও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে আইনের কথা উল্লেখ করে সচেতন করছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া, কৃষিজমি অনাবাদী রাখা বা ওয়ারিশবিহীন অবস্থায় মৃত্যু হলে জমি খাস করা হয়। এরপর তা ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণ করা হয়।”

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের গত ২০শে মে দেয়া এক অফিস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারা দেশে ১৪ জন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ১৪টি অঞ্চলে এ কার্যক্রম মনিটর করবেন। এদের প্রধান কাজ হবে অধিক ফসল উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো জমি যেনো পতিত না থাকে, সে বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখভাল করা।

আর ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, এমন কোনো নির্দেশনা তারাও দেননি। যদিও উচ্চপর্যায়ের এক সভায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছিলো। অর্থাৎ কৃষি জমি ফেলে রাখলে সরকার নিয়ে নেবে, এমন সিদ্ধান্তটি কেন্দ্রীয়ভাবে কোথা থেকে এসেছে সেটি কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। সূত্র: বিবিসি বাংলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • রাজশাহী সুগার মিলে চিনি বিক্রি না হওয়ায় তিন মাস বেতন বন্ধ
  • রাজশাহীতে করোনায় কর্মহীন হয়েছে ৬১ ভাগ মানুষ
  • সংকটে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা
  • ৩০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন
  • বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আসছে
  • তৃণমূলে কঠোর বার্তা আ.লীগের
  • সামনে ভয়াবহ বিপদ: ডব্লিউএইচও
  • রাজশাহীতে নীরবে ঘর গোছাতে ব্যস্ত জামায়াত
  • রাজশাহীতে কমিটি নিয়ে সব দলেই সংকট
  • রাজশাহী ওয়াসার এমডির তুঘলকি কাণ্ড
  • বাংলাদেশে গরু পাচার চক্রে বিএসএফ
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
  • রাজশাহীর একমাত্র করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল বন্ধ
  • করোনা জয় করে রাজশাহী ফিরলেন আ.লীগ নেতা বেন্টু
  • নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি
  • উপরে