ধানের ভাল দামে পেয়ে খুশি নওগাঁর কৃষকরা

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২০; সময়: ১০:০৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : নওগাঁয় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ। ইতি মধ্যে জেলায় ১৮ ভাগ ধান কাটা মাড়াই শেষ। কাটা মাড়াইয়ের শুরুতেই কৃষকরা বাজারে ধান ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি। এদিকে ধান কাটা মাড়াই শুরু হওয়াতে এ প্রভাব পড়েছে নওগাঁর চালের বাজারে। ফলে সকল ধরণের চাল প্রতি কেজিতে এক সপ্তাহ ব্যবধানে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা কমে কেনা বেচা হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, স্বল্প মূল্য সার, তেল ও কৃষিতে সরকারের ভূর্তিকী দেওয়ায় নওগাঁয় ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জমিতে রোগবালাই দেখা না দেওয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফল হয়েছে।

বিভিন্ন ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় প্রায় ১শ’ টাকা বেশি দরে প্রতি মণ ধান কেনা বেচা হচ্ছে। মোটা জাতের ধান ৬শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা এবং চিকন জাতের ৭শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত প্রতি মণ কেনা বেচা হচ্ছে।

জেলার কয়েক জন কৃষক জানান, প্রতি বিঘা ধান লাগানো থেকে মাড়াই পর্যন্ত প্রায় ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় চিকন জাতের ধান ২২ থেকে ২৫ মণ এবং মোটা জাতের ধান ২৫ থেকে ২৮ মন ধান উৎপাদন হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদন বেশি। এসব ধান বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি। এতে তারা কিছুটা লাভবান হচ্ছে বলে জানান তারা।

এদিকে নতুন ধান বাজারের আসতেই এর প্রভাব পড়েছে নওগাঁর চালের বাজারে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সকল ধরনের প্রতি কেজি চাল ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা কমে কেনা বেচা হচ্ছে।

নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খুচরা বাজারে চিনি আতব ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা, বাসমতি ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকা, সম্পা কাটারী ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা, পাইজাম ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা, জিরাশাইল ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকা, খাটো জিরা ৪৫ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, রঞ্জিত ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা, বিআর আটাশ ৪৪ টাকা থেকে ৪৫ টাকা এবং স্বর্ণা ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকায় কেনা বেচা হচ্ছে।

নওগাঁয় পৌর ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তর কুমার সরকার জানান, নতুন ধান বাজারে আসায় চালের দাম কমেছে। বাজারে বর্তমানে তেমন কেনা-বেচা নেই। জেলায় পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হলে চালের বাজার আরো কিছুটা কমবে বলে জানান তিনি।

জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, সরকারী ভাবে চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা দরে ১০ লাখ মেট্রিকটন সিদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা দরে দেড় লাখ মেট্রিকটন আতপ চাল মিলারদের কাছ থেকে এবং ২৬ টাকা দরে ৮ লাখ মেট্রিকটন কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অপর দিকে নওগাঁর প্রায় ১২শ চাতাল মালিকরা ধান কেনা শুরু করায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছেন।

সরকার বেশি করে কৃষকদের কাছে থেকে ধান ও মিলারদের কাছে থেকে চাল কেনায় বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান ধানের বাজার যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামিতে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হবেন বলে মনে করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • রাসিকের পৌরকর পরিশোধে বিশেষ ছাড়
  • পুঠিয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ
  • পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার
  • সিন্ডিকেট করে চালের মূল্য বাড়ানো হলে চরম মূল্য দিতে হবে ব্যবসায়ীদের: খাদ্যমন্ত্রী
  • দেশে করোনায় মোট মৃত ৪৯৩৯
  • অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদের মানববন্ধনে চড়াও নেসকো
  • সোনামসজিদে চালুর পরদিন ফের পেঁয়াজ আমদানী বন্ধ
  • বিশ্বে তিন কোটি মানুষ অভুক্ত, সাহায্য প্রয়োজন ধনীদের: বিশ্ব খাদ্য সংস্থা
  • তৃণমূলে আ.লীগের পাঁচ সাংগঠনিক নির্দেশনা
  • বাংলাদেশের বর্জ্য পানিতে পাওয়া গেছে করোনা
  • সব পৌরসভায় প্রার্থী দিবে জাতীয় পার্টি
  • ভারতে করোনার সংক্রমণ ছাড়াল ৫৪ লাখ
  • ইউজিসির শুনানিতে যাননি রাবির ভিসি-প্রোভিসি
  • সাহেদের অস্ত্র মামলার রায় ২৮ সেপ্টেম্বর
  • এক ট্রাক উদ্ধারে গিয়ে আরেক ট্রাকের ধাক্কায় এসআই নিহত
  • উপরে