নাটোরে আরো এক মাস দেরিতে বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠবে

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০১৯; সময়: ৪:৩৬ pm |
খবর > কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : অসময়ে বর্ষণের কারণে নাটোরে নষ্ট হয়েছে পেঁয়াজসহ শীতকালীন আগাম সবজি। জমি থেকে পানি নামার পর নতুন করে পেঁয়াজ লাগানো শুরু করেছেন চাষীরা। ফলে শীত মৌসুমের শুরুর দিকে বাজারে না ওঠার সুযোগে নাটোরেও অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। স্থানীয়ভাবে চাষ করা এসব পেঁয়াজ বাজারে আসতে সময় লাগবে আরো প্রায় এক মাস। জেলার বাইরে থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি না পেলে দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না ভোক্তারা।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, নাটোরের জেলা সদর, নলডাঙ্গা, বড়াইগ্রাম ও লালপুরের পদ্মার চরে পেঁয়াজের চাষ হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে পিয়াঁজ চাষ হয়েছে। এতে সর্ব্বোচ্চ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন পিয়াঁজ উৎপাদনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তবে চলতি বছর ভারত বাঁধ খুলে দিলে ফারাক্কার পানি দিয়ে পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ চর এলাকা প্লাবিত হয়। এতে শীতের আগাম সবজীর সাথে নষ্ট হয় ক্ষেতের পেঁয়াজ। সময়মতো ফলন তুললে বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ তুলনামূলক কম দামে ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে পারতো। এই অবস্থায় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দিলে আমদানী নির্ভর দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। এই অবস্থায় নতুন করে নাটোরের চাষীরা জমিতে পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন। তাই নতুন পিয়াঁজ বাজারে আসতে এখনও প্রায় ২৫ /৩০ দিন সময় লাগবে। তাই সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে একদিন টিসিবির পিঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে নাটোর শহরে।

চাষীরা জানায়,মাসখানেক আগে বৃষ্টির পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে পিঁয়াজের ক্ষেত। তাই শীতের শুরুতে বাজারে সরবরাহ নেই পিঁয়াজের। এই সুযোগে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পিঁয়াজ। স্থানীয়ভাবে আবাদকৃত পিঁয়াজ বাজারে আসতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে জানান চাষীরা।

সদর উপজেলার সেনভাগ গ্রামের কৃষাণী হালিমা খাতুন,কৃষক আব্দুল খালেক ও আবুল কালাম জানান, বৃষ্টি না হলে এতদিনে তারা পিয়াঁজ ঘরে তুলতেন। বৃষ্টির কারনে প্রথম দফায় রোপণ করা পিয়াজ নষ্ট হলে যায়। তাই পরে রোপণ করা পিয়াঁজ তুলতে এখনও অন্তত একমাস সময় লাগবে। এই পিঁয়াজের ফলনও তেমন ভাল হবেনা বলে তারা ধারনা করছেন।

বাগাতিপাড়া উপজেলার নওশেরা গ্রামের কৃষক আশরাফ বলেন,নাটোরে যখন পিঁয়াজ ওঠা শুরু হবে তখন এলসির পিয়াঁজে দেশ ছেয়ে যাবে। তাই তখন আমাদের মত কৃষকদরে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন অনেকেই দাম বেশী পাওয়ার আশায় অপুক্ত পিঁয়াজ বাজারে তুলছেন। এতে করে পিয়াঁজের আশানুরুপ উৎপাদন হবেনা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার বলেন,অসময়ে বর্ষণ নাটোরে পিঁয়াজ আবাদে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। কৃষকরা দেরীতে হলেও দ্বিতীয় দফায় অনেক জমিতে পিঁয়াজ আবাদ করায় চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় পিয়াঁজ তোলা শুরু হয়েছে। তবে নাটোরে বাজারে নতুন পিঁয়াজ উঠতে আরও এক সপ্তাহ লাগতে পারে। নতুন পিয়াঁজ বাজারে উঠলে বিদ্যমান সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • দুর্গাপুরে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষে পবায় জলাবদ্ধতা
  • অতি বৃষ্টিতে দুশ্চিন্তায় বরেন্দ্রের কৃষক
  • তানোরে পানিতে ডুবে গেছে বিল কুমারী বিলের ধান
  • মহাদেবপুরে কোরবাণির পশুহাট জমে উঠলেও ক্রেতা নেই
  • আদমদীঘিতে কৃষকদের লেবু চাষে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি অফিস
  • রাজশাহীতে করোনার প্রভাবে লোকসানে পানচাষীরা
  • আত্রাইয়ে বন্যায় থমকে গেছে কৃষকের স্বপ্ন
  • নওগাঁর রাণীনগরে বন্যায় ধান-সবজির ব্যাপক ক্ষতি
  • গোদাগাড়ীতে আউশ প্রণোদনার সেচ সুবিধা পাচ্ছেন ২১ হাজার কৃষক
  • বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষক
  • বদলগাছীতে জমি চাষ হচ্ছে যন্ত্রের সাহায্যে
  • আত্রাইয়ে পাট কাটা-ধোয়ায় ব্যস্ত কৃষাণরা
  • কামারখন্দে কলা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
  • ভাল দাম থাকায় বরেন্দ্রাঞ্চলে আউশের আবাদ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে
  • ড্যান ড্যান, বাঁ বাঁ, যা যা, হুট হাট আর শোনা যায় না
  • উপরে