আত্রাইয়ে পাট কাটা-ধোয়ায় ব্যস্ত কৃষাণরা

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০১৯; সময়: ১২:৪৬ pm |
খবর > কৃষি

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই : এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট চাষে কৃষক দুরাবস্থার সম্মুখীন হলেও চলতি মৌসুমে নওগাঁর আত্রাইয়ে সোনালী আঁশের দিন ফিরে আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণী। অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুঁটেছে হাঁসির ঝিলিক।

উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সময় মত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিচ্ছে কৃষকেরা। চাষিরা পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটে বাজারে তা বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে নারী-পুরুষের অংশ গ্রহণে পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। অনেক স্থানে কৃষক খরচ বাঁচাতে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে আঁশ ছাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলেও কৃষকরা তাতে আগ্রহ নয়।

আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক স্থানে চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন হওয়া ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকেরা খুশি হয়েছে। কৃষকের মুখে এখন হাঁসির ঝিলিক।

উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ভালো মানের পাটের মূল্য ১৮‘শ টাকা মণ ও নিম্ন মানের পাটের মূল্য ১৫‘শ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। ফলে ন্যায্য মূল্য পেয়ে পাট চাষীদের মাঝে এখন পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলার মাগুড়াপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, এবার জমিতে পাট চাষ করেছিলাম পাটও ভালো হয়েছে এবং অন্য বছরের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় লোকসানে পড়তে হচ্ছে না।

উপজেলার খঞ্জর গ্রামের কৃষক আহাদ আলী ও আবুল কালাম আজাদ বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম তবে পড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ফলন ও ভালো হয়েছে। এবার আমি জমিতে পাট চাষ করেছিলাম বাজারে পাটের মূল্য বেশি হওয়ার কারণে আগামি বছর আরো বেশি জমিতে পাট চাষ করবো বলে আমরা মনে করছি।

উপজেলার সাহেবগঞ্জ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কেরামত আলী জানান, এবার গত বছরের তুলনায় আমাদের এলাকায় পাটের আবাদ কম হলেও পাটের ফলন ও দাম অনেক বেশি। এলাকার কৃষকরা যাতে পাট যথাযথভাবে উৎপাদন করতে পারে এবং স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল পাট উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে পাটকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমান ঔষধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাটের ফলন ভালো হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম ও অনেক বেশি। পাটের নায্য মূল্য পেলে চাষিদের মাঝে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • কামারখন্দে কলা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
  • ভাল দাম থাকায় বরেন্দ্রাঞ্চলে আউশের আবাদ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে
  • ড্যান ড্যান, বাঁ বাঁ, যা যা, হুট হাট আর শোনা যায় না
  • আমন চাষে পুরোদমে মাঠে কৃষক
  • রাজশাহীর পদ্মার চরে বাদাম চাষে লাভবান কৃষক
  • সৌদির সাম্মাম চাষ হচ্ছে নওগাঁয়
  • ধামইরহাটে বিনামুল্যে ২৫৬ পরিবারে সবজি বীজ বিতরণ
  • সুজানগরের কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান
  • শিবগঞ্জে পাট চাষীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা
  • বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ বিতরণ
  • সৌদির মরুভূমির ‘সাম্মাম’ ফল এখন আত্রাইয়ে
  • সরকারি প্রণোদনার খবর জানেন না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
  • তানোরে সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের
  • পুঠিয়ায় বোরো ধান-চাউল সংগ্রহ কর্মসূচীর উদ্ধোধন
  • সুপ্রিম কোর্টের কাগজ জালিয়াতি করে ফসলী জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ
  • উপরে