শোককে শক্তিতে রুপান্তরের প্রত্যয় নিয়ে সুজানগরে জাতীয় শোক দিবস পালন

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৩; সময়: ১:০৯ pm |
শোককে শক্তিতে রুপান্তরের প্রত্যয় নিয়ে সুজানগরে জাতীয় শোক দিবস পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক : শোককে শক্তিতে রুপান্তরের প্রত্যয় নিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান জর্জের সঞ্চালনায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে অনুষ্ঠিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পাবনা-২ আসনের এমপি আহমেদ ফিরোজ কবির।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন ও পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা। শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা-২ আসনের এমপি আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন,বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু এক-অবিচ্ছেদ্য।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেয়া এক শিশু তরুণ বয়স থেকেই বাঙালি জাতির স্বাধীকার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষা জীবন ও রাজনীতি চলে পাশাপাশি। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে জড়িয়ে ৪৭, ৫২, ৬৯, ৭০ সহ বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর দ্বার হতে বারবার ফিরে এসেছিলেন তিনি।

বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ট নেতৃত্ব এবং লাখো শহীদের রক্তে বিনিময় আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। আজ বঙ্গবন্ধু নেই রয়েছে তার প্রজ্ঞার স্বাক্ষর। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পুরোধা পুরুষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু ।

তিনি বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তীতে জাতির জনককে হত্যার পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ ছিল তিমিরাচ্ছন্ন। দেশ পরিচালনার নেতৃত্ব গ্রহণ করে অনির্বাচিত সরকার। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে আশ্রয়-প্রশ্রয় পায় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়।

এমনকি বঙ্গবন্ধু যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছিলেন তাদেরও নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ‘৭২-এর সংবিধান সংশোধন করে চার-মূলনীতি পরিবর্তন ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে সহায়তা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে যতগুলো হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ১৫ আগস্টে জাতির জনকের সপরিবারে হত্যা সব ভয়াবহতা ছাড়িয়ে গেছে।

সেদিন দুগ্ধপোষ্য শিশু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, প্রতিবন্ধী কেউই রেহাই পায়নি। আর হত্যাকান্ডে খুনিদের শান্তি নিশ্চিত না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আড়াল করার অপচেষ্টা হয়েছে হয়েছে ।এমনকি খুনিরা পুরস্কৃতও হয়েছে নানাভাবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুই বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যিনি বিদেশের কারাগারে বন্দি থাকলেও তার নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশকে স্বাবলম্বী করতে হলে তাঁর আদর্শের সরকারকেই রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

শোক দিবসের আলোচনা সভায় থানা অফিসার জালাল উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সানজিদা মুজিব, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ,আব্দুল হাই, সুজানগর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, সুজানগর শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলী, আ.লীগ নেতা সাইদুর রহমান,রাজা হাসান, ইউনুস আলী বাদশা,মাহমুদ্দুজ্জামান মানিক, দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন,সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ, উপজেলা যুবরীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী সহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ দেশ এবং জাতির উদ্দেশ্যে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের অন্যান্য সকল কর্মসূচিও শোকাবহ পরিবেশে পালিত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে