রাজশাহীতে সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসছে ভারতীয় গরুর মাংস

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৩; সময়: ১০:১৫ pm |
রাজশাহীতে সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসছে ভারতীয় গরুর মাংস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাঘা : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সীমান্ত এলাকার কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে আসছে ভারতীয় গরুর মাংস। দেশিয় গরুর মাংসের দাম চড়া হওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরাইপথে আমদানি করছে ভারতের গরুর মাংস। এসব মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে।

আর বাংলাদেশি মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা। দামে কম হওয়ায় ভালো মন্দ যাচাই না করে ভারতীয় মাংসের দিকে ঝুঁকছে মাংস প্রেমিরা।

বিজিবি সুত্রে জানা গেছে,সম্প্রতি আলাইপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ৩৫ কেজি ভারতীয় গরুর মাংস জব্দ করা হয়েছে। মাংসগুলো আলাদা আলাদা পলিথিনের প্যাকেটে ছিল। আর প্যাকেটগুলো প্লাষ্টিকের বস্তায় করে আনা হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার আলাইপুর-মীরগঞ্জ সীমান্ত পথ দিয়ে সরাসরি ভারতে জবাই করা গরুর মাংস আসছে। পলিথিনের প্যাকেটে করে চোরাই পথে সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকানো হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও নিজের প্রয়োজনে ভারতীয় মাংস কিনছেন। হোটেলেও বিক্রি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, কার কতটুকু মাংস লাগবে আগে থেকেই জেনে নিয়ে পলিথিনের প্যাকেটে করে ক্রেতাদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা ।

বাঘার সোহাগ নামের একজন জানান,তার বোনের বাড়ি আলাইপুর সীমান্ত এলাকায়। সেখানে বেড়াতে গিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছি। তবে তেমন স্বাদ পাননি। সেখানে গিয়ে জানতে পেরেছেন প্রায় দিনই চোরাই পথে ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানি করে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে প্রকাশ্যে এসব মাংস বিক্রি করা হয়না বলে জানান। ভারতীয় গরুর মাংস প্রতিকেজি ৪০০ টাকা করে কেনা হয়েছে বলে জানান তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মাংস ক্রেতা খায়রুল নামের এক পাওয়া গেলেও বিক্রেতার নাম জানাতে রাজি হননি।

দেশীয় গরুর মাংস ব্যবসায়ী সাজেদুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানির কারণে আমাদের বিক্রিও কমে গেছে। ভারতে গরু জবাই করে এসব মাংস আমদাদি করা হচ্ছে বলে জানান।

চোরাই পথে ভারতীয় মাংস আমদানির বিষয়ে উপজেলার পাকুড়িয়া ও মনিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেরাজ সরকার ও সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মানিক সভায় অবগত করানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার শারমিন আখতার বলেন, ভারতীয় মাংস আসার বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। বিষয়টি জানার পর সভায় উপস্থিত আলাইপুর ও মীরগঞ্জ সীমান্ত এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জকে গুরুত্ব সহকারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়াও বাজারগুলোতে মনিটরিং করছি। ভারতীয় মাংস পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার আলাইপুর সীমান্তের বিজিবি’র কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আব্দুর রব এর সাথে সরাসারি কথা হলে বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা সপ্তাহের ৪দিন-সোমাবর,মঙ্গলবার,বুধবার ও বৃহসপতিবার ভারতে গরু জবাই করে বাংলাদেশে মাংস নিয়ে আসছে বলে জেনেছি। জড়িতদের নামের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমাদের টহলও জোরদার আছে। আগের জব্দকৃত ৩৫ কেজি ভারতীয় গরুর মাংসগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আব্দুর রব।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা.রোকনুজ্জামান বলেন,বিষয়টি অবগত হয়ে আমার মাঠ কর্মী ও মাংস ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করেছি। সেখানে মাঠ কর্মীদের তদারকি করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও মাংস ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, প্রমান সাপেক্ষে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারত থেকে আমদানি করা মাংসগুলো কিসের, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া সেটা বলা মুশকিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. আশাদুজ্জামান আশাদ বলেন, দীর্ঘ সময় পলিথিন ও বস্তায় মাংস রাখার কারণে গুণগতমানও নষ্ট হবে। এসব মাংস খেলে বিভিন্ন রকম পেটের অসুখ দেখা দিবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে