কি আছে মডেল মসজিদে?

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৩; সময়: ২:২৫ pm |
কি আছে মডেল মসজিদে?

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বাংলাদেশে এ নির্মাণ প্রকল্প সরকারের ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। ইসলাম ধর্মীয় ইবাদত ও শিক্ষার অনুশীলনের জন্য নির্মিত হচ্ছে এ আধুনিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

সরকার প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব পরিকল্পনায় এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের মসজিদগুলো।

প্রথম ধাপের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ধাপে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন। আজ সোমবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬৪টি মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

কিন্তু কি আছে এই মডেল মসজিদে?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি করে মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। যার ব্যয় ধরা হয় ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।

প্রকল্পের উদ্দেশ
এ প্রকল্পের উদ্দেশ হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট, ১৯৭৫-এর বাস্তবায়ন। দেশব্যাপী মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সারাদেশে শক্তিশালী ইসলামি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নির্মাণ করে সারাদেশে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও প্রকৃত মূল্যবোধের প্রচার ও দীক্ষাদান। সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। পুরুষ-নারী মুসল্লিদের জন্য নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দীনি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভৌত সুবিধাদি সৃষ্টি করা। সর্বোপরি ইসলামিক জ্ঞান ও সংস্কৃতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধের পরিচর্যা ও প্রসার করা এবং সততা ও ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আনুগত্য সমর্থন সৃষ্টি করা।

প্রকল্প কার্যক্রম
অনুমোদিত প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ৪০ শতাংশ জায়গার উপর জেলা পর্যায়ে চারতলা ও উপজেলার জন্য তিনতলা এবং উপকূলীয় এলাকায় চারতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব মসজিদ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

তিন ক্যাটাগরিতে মসজিদগুলো নির্মিত হচ্ছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৬৯টি চারতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ রয়েছে। এগুলো ৬৪টি জেলা শহরে এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মিত হচ্ছে। এগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ২৩৬০ দশমিক ০৯ বর্গমিটার।

১৬৮০ দশমিক ১৪ বর্গমিটার আয়তনের ‘বি’ ক্যাটারির মসজিদ হচ্ছে ৪৭৫টি। এগুলো নির্মিত হচ্ছে সকল উপজেলায়। আর ২০৫২ দশমিক ১২ বর্গমিটার আয়তনের ‘সি’ ক্যাটাগরির মসজিদ হচ্ছে ১৬টি উপকূলীয় এলাকায়।

জেলা সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মাণাধীন মসজিদগুলোতে একসঙ্গে এক হাজার ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। অপরদিকে উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকার মডেল মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ৯০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।

এসব মসজিদে সারাদেশে প্রতিদিন চার লাখ ৯৪ হাজার ২০০ জন পুরুষ ও ৩১ হাজার ৪০০ জন নারী একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

লাইব্রেরি সুবিধার আওতায় প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক এক সঙ্গে কোরআন ও ইসলামিক বই পড়তে পারবেন। ইসলামিক বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে ৬ হাজার ৮০০ জনের। ৫৬ হাজার মুসল্লি সব সময় দোয়া, মোনাজাতসহ তসবিহ পড়তে পারবেন।

মসজিদগুলো থেকে প্রতি বছর ১৪ হাজার হাফেজ তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। আরও থাকবে ইসলামি নানা বিষয়সহ প্রতিবছর এক লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা। দুই হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে প্রকল্পের আওতায়। কেন্দ্রগুলোতে পবিত্র হজ পালনের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। উপকূলীয় এলাকার মসজিদগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নিচতলা ফাঁকা থাকবে।

যে সুবিধা রয়েছে
এতে থাকছে নারী-পুরুষের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা। প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের টয়লেটসহ নামাজের পৃথক ব্যবস্থা। ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র। ইসলামিক লাইব্রেরি। অটিজম কর্নার। ইমাম ট্রেনিং সেন্টার। ইসলামিক গবেষণা ও দীনি দাওয়া কার্যক্রম। হেফজখানা। শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন ও অতিথিশালা। মরদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থা। হজ্জ যাত্রীদের নিবন্ধনসহ প্রশিক্ষণ। ইমামদের প্রশিক্ষণ ও গাড়ি পার্কিং । ১৪. ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা।

প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে
জেলা শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। উপজেলা পর্যায়ে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। উপকূলীয় এলাকায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

সারাদেশে নির্মাণাধীন এ সকল মসজিদের ভৌত অবকাঠামো গণপূর্ত অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে