বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয় : ওড়িশা হাইকোর্ট

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৩; সময়: ৪:১৪ pm |
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয় : ওড়িশা হাইকোর্ট

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সঙ্গে তার সম্মতিক্রমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে সেটা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের ওড়িশার হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে একজন নারী তার নিজের পছন্দে কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হলে সেখানে ধর্ষণ আইন ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) আদালত এ সংক্রান্ত রায় জানান।

রায়ের ব্যাখ্যায় বিচারপতি এস কে পানিগ্রাহী জানিয়েছেন, বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বললে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার অপব্যাখ্যা করা হয়।

এমনকি কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়াই সম্মতিক্রমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণের জন্য শাস্তি) অধীনে বিচারিক বিষয় হওয়া উচিত না। বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণের আইনটি ভ্রান্ত বলে মনে হয়।

তিনি বলেন, নিমাপডাবাসী এক নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তারপর সেই ব্যক্তি লাপাত্তা হয়ে যান।

অভিযোগকারী ওই নারী থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ সেই ব্যক্তিকে আটক করে ধর্ষণের মামলা করেন। অভিযুক্ত নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর অভিযুক্ত হাইকোর্টে আবেদন করেন।

বিচারপতি তার রায়ের ব্যাখ্যায় জানান, এই বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনটিকে কোনো সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত নয়। বিশেষ করে একজন মহিলা যখন সম্পূর্ণ নিজের পছন্দে কোনো সম্পর্কে প্রবেশ করেন।

তিনি জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুরুষদের লালসার শিকার হন গ্রামের দরিদ্র নারীরা। ধর্ষণ সংক্রান্ত আইন প্রায়শই তাদের দুর্দশা দূর করতে ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতি খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে আদালত। এ সময় তাকে তদন্তে সহযোগিতার এবং অভিযোগকারীকে কোনো ভীতি প্রদর্শন না করার নির্দেশ দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে