পাবনায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বারি ৫ চাষের মাঠ দিবস উৎযাপন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৩; সময়: ৬:২০ pm |
পাবনায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বারি ৫ চাষের মাঠ দিবস উৎযাপন

এম এ আলিম রিপন, সুজানগর : পাবনায় গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ চাষে আশার আলো দেখছেন চাষীরা। দেশের পেঁয়াজের ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিউট উদ্ভাবন করেছে উচ্চ ফলনশীল বারি পেঁয়াজ-৫, যা সারা বছর চাষীরা আবাদ করতে পারবে।

এ জাতের পেঁয়াজ আবাদ করে সফল হয়েছে চাষী, তাই ভালো ফলনের পাশাপাশি অধিক লাভবান হওয়ার আশা চাষীদের। নতুন জাত হিসাবে চাষীদের মন কেরেছে এই জাতের পেঁয়াজ। এরই ধারাবাহিকতায় বছরব্যাপি পেঁয়াজ (বারি পেঁয়াজ-৫) উৎপাদনের লক্ষ্যে সোমবার (০৯ জানুয়ারী) পাবনা সাথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের করিয়াল গ্রামে বিশ্ব ব্যাংক এর অর্থায়নে “পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)” এর বাস্তবায়িত সাসটেইনেবল এন্টারপ্রইজ প্রজেক্ট এর আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাবনা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়িত পাবনা জেলায় বছরব্যাপি টেকসই পেঁয়াজ উৎপাদনমূলক উপ-প্রকল্পের উদ্যোগে বারি পেঁয়াজ-৫ এর বাল্ব (প্রদর্শনী) উৎপাদনের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মাঠ দিবসে সভাপতিত্ব করেন মো: মনির হোসেন, পরিচালক, পাবনা প্রতিশ্রুতি। উক্ত মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ ড. মো: সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, পাবনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মো: সঞ্জীব কুমার গোস্বামী, উপজেলা কৃষি অফিসার, সাথিয়া, পাবনা ও খোন্দকার বোরহানুর হাসান, উপ-পরিচালক, পাবনা প্রতিশ্রুতি, পাবনা। অন্যদের মাঝে এসইপি প্রকল্পের সকল কর্মকর্তাগন এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।কৃষাণী মোছা: জাহানারা খাতুন ও মোছা: জৎসনা খাতুন এর মাঠের উৎপাদিত বারি পেঁয়াজ-৫ এর ফলন দেখে অন্য কৃষক-কৃষাণীরা উদ্বুদ্ধ হন।

উলেখ্য যে উৎপাদিত ৫ টি পেঁয়াজের ওজন হয় ৯৯০ গ্রাম (প্রায় ১ কেজি) এবং পাতা সহ ওজন হয় ১.৬ কেজি। কৃষকেরা আশা করছেন উক্ত জাতের পেঁয়াজে প্রতি শতকে ২.৫ থেকে ৩ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। উক্ত জাতের পেঁয়াজের চারা লাগানো থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময় লেগেছে ৮০ দিন।গ্রীস্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন পদ্ধতি ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন মো: সঞ্জীব কুমার গোস্বামী, উপজেলা কৃষি অফিসার, সাথিয়া, পাবনা।

প্রধান অতিথি ড. মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, বছরব্যাপি এই গ্রীস্মকালীন পেঁয়াজের জাতটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের পেঁয়জের ঘাটতি অনেকটাই পূরন করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রয়োজন কৃষি গবেষনা, কৃষি সম্প্রসারণ, বিএডিসি ও বেসরকারির সংস্থা সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করা।

পাবনা প্রতিশ্রুতির পরিচালক জনাব মো: মনির হোসেন বলেন, আমরা আশাবাদি পরবর্তী বছর থেকে পাবনা জেলার সকল পেঁয়াজ চাষী সারা বছর বারি-৫ পেঁয়াজ চাষ করবে। তিনি পাবনা প্রতিশ্রুতির পক্ষ্য থেকে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

মো: মনির হোসেন বলেন মসলা গবেষনা কেন্দ্রের কর্মকর্তাগনের সহযোগিতা ও উপজেলা কৃষি কর্মকতগন যেভাবে সরাসরি মাঠে গিয়ে বারি-৫ পেঁয়াজ চাষে আমাদের কৃষকদের সহযোগিতা ও বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছেন যার ফলে বারি-৫ পেঁয়াজ চাষে আমরা পূর্নাঙ্গ সফল হয়েছি।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে