ভাড়া করা লোক দিয়ে গুলি করে হত্যা মামলা আসামির পক্ষে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৩; সময়: ১:২৩ pm |
ভাড়া করা লোক দিয়ে গুলি করে হত্যা মামলা আসামির পক্ষে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী : পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থানীয় অনুসারী ও ভাড়া করা লোক দিয়ে রিকশাচালককে খুন করা মামলার প্রধান আসামি কামাল উদ্দিনের পক্ষে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে উপজেলা সদরের শৈলপাড়া এলাকায় ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে এটি শেষ হয়।

কর্মসূচিতে কামাল উদ্দিনের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় অনুসারী ও ভাড়া করা লোকসহ প্রায় ৪০ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন।

বুধবার রাতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরি কড়ইতলা এলাকায় নছিমনচালকের সঙ্গে এক লেগুনাচালকের বিরোধ তৈরি হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে বিরোধে জড়ান। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধস্তাধস্তি চলাকালে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর কামাল উদ্দিনের ভাই আনোয়ার হোসেন সঙ্গে থাকা পিস্তল বের করে গুলি চালান। এতে রিকশাচালক মামুন হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত মামুনের মা লিপি খাতুন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় যুবলীগ নেতা কামাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি ও তাঁর ভাই আনোয়ার হোসেনকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনও যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত।

এরপর শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সদরের শৈলপাড়া মহল্লা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঈশ্বরদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন। অপর আসামি হলেন হৃদয় হোসেন (২১)। তিনি ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি। তাঁকে মামলায় ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও থানা ফটকে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সময় যুবলীগ নেতা কামাল উদ্দিনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর নির্দেশেই আনোয়ার হোসেন পিস্তল বের করে গুলি চালান। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অপর আসামিরা চাকু দিয়ে অন্যদের কোপাতে থাকেন। এতে ছুরিকাহত হন স্থানীয় যুবক সুমন হোসেন ও গুলিবিদ্ধ হন রকি হোসেন। রকি হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আর সুমন হোসেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরদী থানা ফটকের সামনে মামুন হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে তাঁর স্বজনসহ বেশ কিছু নারী-পুরুষকে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় ‘মামুন হত্যার বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই’ স্লোগানও দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিক্ষোভের বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না। সকালে শৈলপাড়া, রহিমপুর, স্কুলপাড়া (আংশিক) বের হয়ে অটো ও মোটরসাইকেলে আসা অপরিচিত লোক দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন রিকশাচালককে গুলি করে হত্যার আসামিদের পক্ষে তারা আন্দোলন করতে এসেছে।

তারা এমন কর্মসূচিতর সমালোচনা করে বলেন, যেই লোক মানুষ হত্যার মতো এমন জঘন্য কাজ করেছে তার পক্ষে আবার আন্দোলন? তারা এই আসামির ফাঁসি দাবি করেন।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে