পাবনায় যুবলীগ নেতার গুলিতে রিকশাচালক নিহত

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৩; সময়: ১:২০ pm |
পাবনায় যুবলীগ নেতার গুলিতে রিকশাচালক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা থেকে : পাবনার ঈশ্বরদীতে যুবলীগ নেতার গুলিতে এক রিকশাচালক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মামুন হোসেন (২৫)৷ এঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থাও গুরুতর। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (০৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের পশ্চিম টেংরি কড়ইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মামুন পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী গ্রামের মানিকের ছেলে। পেশায় রিকশাচালক। আর আহতরা হলেন- রকি হোসেন (২৬) ও সুমন হোসেন (২৮)। অভিযুক্তরা হলেন- ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, ১ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা হৃদয় হোসেন এবং ছাত্রলীগকর্মী ইব্রাহিম। আনোয়ার হোসেন ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দিনের ভাই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পারভেজ বলেন, ‘আমরা দ্রুতগতির একটি নছিমন গাড়ি থামিয়ে তাকে দ্রুতগতির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছিলাম। নছিমন থামানোর সময় পেছনে থাকা একটি লেগুনা পেছনে ধাক্কা খেয়ে সামনের গ্লাস ভেঙে যায়। নছিমন চালাকের চাবি কেড়ে নিয়ে তার কাছ থেকে জরিমানা দাবি করেন লেগুনা চালক। এবিষয়ে তাকে বাধা দিলে একজন মহিলাকে ধাক্কা দেন। এসময় মহিলাকে ধাক্কা দেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে রেগে চলে যান। পরে নছিমন চালকও স্থান ত্যাগ করেন’

তিনি আরও বলেন, ‘এঘটনার কিছুক্ষণ পর আনোয়ার, হৃদয় ও ইব্রাহিমসহ কয়েকজন লোক এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন- কেন আমরা জরিমানা নিতে বাধা দিয়েছি এবং নছিমন চালককে তাড়িয়ে দিয়েছি। শুরু হয় তর্কাতর্কি৷ সে সময় মামুন, রকি ও সুমনসহ আশপাশের লোকজন এসে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে আনোয়ার হোসেন তার কোমরে থাকা পিস্তল বের করে গুলি করেন। এতে মামুন হোসেন ও রকি হোসেন গুলিবিদ্ধ হোন। এবং সুমনকে ছুরিকাঘাতে আহত করে পালিয়ে যায।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুলিবিদ্ধ রকি হোসেন ও ছুরিকাঘাতে আহত সুমনের অবস্থার অবনতি হয়। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, ‘মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে