গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির ক্ষমতা বিএনপির নেই: কামরুল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৩; সময়: ২:২১ pm |
গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির ক্ষমতা বিএনপির নেই: কামরুল

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : গণ আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করার ক্ষমতা বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। সম্পতি সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট কামরুল বলেন, গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করার সামর্থ্য নেই বিএনপির। অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দলটি জনসমর্থন হারিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

কামরুল আরও বলেন, একজন জেলখানায়, আরেক জন বিদেশে পালিয়ে আছে। মানুষ কীসের ওপর ভিত্তি করে বিএনপির জন্য মাঠে নামবে, তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে? আন্দোলন কী, আর কত প্রকার মানুষ জানে, আমরা জানি, আর সাধারণ মানুষও জানে। তাদের যে সমস্ত কর্মসূচি ও কথাবার্তা, গণ আন্দোলন কিংবা গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করার মতো কিছুই তাদের নেই।

বিএনপির ১০ দফা দাবি কখনও মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ভরাডুবি হবে জেনেই আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না তারা।

তবে গত বছরের মধ্যভাগ থেকেই ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি ছিল বিএনপির। এসেছে নতুন বছর। আন্দোলন কতোটা জমাতে পেরেছে বিএনপি? নেতারা এখন বলছেন, জনগণ জেগে উঠছে। সরকারের পতনের সময় হয়ে গেছে। তবে আওয়ামী লীগের মতে, গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতা বিএনপির নেই। অতীতের জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে বিএনপি এখন জনসমর্থনহীন।

আরও পড়ুন: জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল বিএনপি-জামায়াত: পলক

‘ডিসেম্বরেই সরকার পতন হবে, আর দেশ চলবে বেগম জিয়ার নির্দেশে, দেশে ফিরবেন তারেক রহমান’ – গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এমন বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন বিএনপি নেতারা।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের (ক্ষমতাসীনদের) বিদায় দেখতে চায়।’

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতারা যা বলেছিলেন সেগুলো তুলে ধরা হলো: এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, যে কোনো মূল্যে, জীবনের মূল্যে জনগণের মুক্তির এ আন্দোলন সফল হবে আগামী দিনে। আর গত বছরের ৮ অক্টোবর ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেছিলেন, ১০ ডিসেম্বরের পর দেশ চলবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথায়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেছিলেন, ১০ ডিসেম্বরের পর দেশ চালাবে খালেদা জিয়ার সরকার। লক্ষ্মীপুরে ১০ অক্টোবরে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছিলেন, শিগগিরই দেশে ফিরবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১৮ নভেম্বর ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে হবে – এমন কথা বলেছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা নটি বিভাগীয় সমাবেশে সরকারের পতন ঘণ্টা বাজছে বলে হুঁশিয়ারিও দেন বিএনপির নেতারা। যে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ ঘিরে দলটি এতো রাজনৈতিক উত্তাপ ছাড়ায়, সে সমাবেশ শেষ হয় ১০ দফা দাবিতে গণমিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে। এরপর আন্দোলনের পালে শুধু যুক্ত হয় দলটির ৭ এমপির সংসদ থেকে পদত্যাগ।

যদিও ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ব্যাপক শোডাউন করেছে দলটি। এখন নেতারা বলছেন, সরকার পতনের সময় হয়ে এসেছে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘জনগণ রাস্তায় নেমে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে আপনাদেরকে (ক্ষমতাসীনদের) বিদায় করবে।’

কিন্তু বাস্তবতা হলো রাজনীতির মাঠে ঘুরে-ফিরে আসছে একটাই প্রশ্ন – মানুষের মধ্যে কতোটা সাড়া জাগাতে পেরেছে তাদের আন্দোলন!

নেতারা বলছেন, সরকারের দুঃশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে ভোট চুরি করার যে প্রক্রিয়া, সেটা জনগণের কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। এদের (আওয়ামী লীগ সরকার) অধীনে নির্বাচন করে কোনো লাভ হবে না। তারা আবার ক্ষমতা দখল করবে, জনগণকে বাইরে রেখে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বিএনপি জনসাধারণের কথা বলছে, আর এ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। হামলা, মামলা, নির্যাতন, হত্যা, জুলুম – এগুলো করে। এটার থেকে আমরা চাই, দেশটা মুক্ত হোক।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে