বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২২; সময়: ১০:১৮ am |
বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় আনোয়ারুল ইসলাম বাচ্চু নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বাঁধাঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করেছেন। শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের দুই পাশের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়।

জানতে চাইলে আনোয়ারুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, আমাদের বাড়ি বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে। বিদ্যালয়ের মাঠ দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। তিন-চার বছর আগে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর বানানোর সময় আমাদের চলাচলের জন্য দুটো ছোট গেট করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতের বেলা বিদ্যালয়ের প্রহরী মূল গেট বন্ধ রাখেন। এতে খানিকটা পথ ঘুরে আমাদের চলাচল করতে হয়। বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার আমি এ জন্য পৌর মেয়রের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি লিখিত আদেশ দেওয়ার পর আজ সকালে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের দুই পাশে কিছু জায়গা ভেঙে মাটি ও বালু দিয়ে ৫ ফুট চওড়া ও ৭১ ফুট লম্বা একটা অস্থায়ী রাস্তা করেছি। এটা করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৩৭ সালে এলাকার তিন ব্যক্তির দান করা ৯১ শতক জমির ওপর বাঁধাঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান গেটটি পূর্ব পাশে। উত্তর দিকে দুটি পরিবারের বসবাস। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের ৫৫৮ ফুট সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। তখন ওই দুই পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের জন্য উত্তর-পশ্চিম পাশে দুটি ছোট গেট করে দেওয়া হয়।

গতকাল রাতে মোহনপুর এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে মাটি ও বালু ফেলতে থাকেন। আজ সকালে তিনি শ্রমিকদের দিয়ে সীমানাপ্রাচীরের উত্তর পাশে আট ফুট এবং পূর্ব পাশে পাঁচ ফুট ভেঙে ভেতর দিয়ে একটি রাস্তা বানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আকতার বানু বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের দুই দিক ভেঙে ভেতর দিয়ে মাটি ও বালু ফেলে রাস্তা বানানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে জানিয়েছেন। সকালে ইউএনও ঘটনাস্থলে এলে আনোয়ারুল কাজ বন্ধ করে চলে যান। ইউএনও কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে চলে যাওয়ার পর আনোয়ারুল পুনরায় কাজ শুরু করে রাস্তার শেষ করেন।

মনিরামপুর পৌরসভার মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি গতকাল তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তার আবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে চলাচলের রাস্তা সংস্কার ও সামনের পাশে দুটি গেট নির্মাণের লিখিত অনুমতি দিয়েছেন। সীমানাপ্রাচীর ভাঙার অনুমতি তিনি দিতে পারেন না। সীমানাপ্রাচীর ভাঙা ঠিক হয়নি।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, বাচ্চুকে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে রাস্তা বানাতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি শোনেননি। তিনি আমাকে বলেন, মেয়র তাঁকে কাজ করতে বলেছেন, তিনি করবেন। আমি মেয়রের সঙ্গে দেখা করিনি বা এ বিষয়ে কোনো কথাও বলিনি। তবে বিষয়টি আমি ইউএনও, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে জানিয়েছি।

মনিরামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবুল আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের পেছনের দিকে পাঁচটি পরিবার বসবাস করে। বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করায় তাঁদের বাগান দিয়ে ঘুরে চলাচল করতে হয়। সীমানাপ্রাচীর ভেঙে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সীমানাপ্রাচীর ভাঙা ঠিক হয়নি। রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবার সবাইকে নিয়ে বসে একটা সমাধান করা হবে। ভেঙে ফেলা সীমানাপ্রাচীর মেরামত করে দেওয়া হবে।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবীর হোসেন বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমনটি হয়েছে। সীমানাপ্রাচীর অক্ষত রাখা হবে। ভেঙে ফেলা সীমানাপ্রাচীর ঠিক করা হবে। এলাকাবাসীরা যাতে চলাচল করতে পারেন,সেই বিষয়টিও দেখা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে