তাড়াশের সোনালী ব্যাংকে কৃষি ঋণ বিতরণে অনিয়ম

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২২; সময়: ৫:২২ pm |
তাড়াশের সোনালী ব্যাংকে কৃষি ঋণ বিতরণে অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাড়াশ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ বাজার শাখার সোনালী ব্যাংক কর্তৃক কৃষকদের মাঝে কৃষি ঋণ বিতরণে ব্যপক অনিয়ম ও দূর্নীতি করার অভিযোগ উঠেছে ঐ শাখার অফিসার ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, প্রতিটি কৃষি ঋণে ১লাখে ৮/১০ হাজার টাকা ঘুষ নিচ্ছেন অত্র সোনালী ব্যাংকের অফিসার ফরহাদ হোসেন। এভাবে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সচেতন মহল জানান, যে সকল কৃষক কৃষি ঋণ পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে ঋণ না দিয়ে ভূয়া জমির কাগজধারী কৃষকদের বেশিরভাগ ঋণ প্রদান করছেন। কারণ, ভূয়া জমির কাগজে ঋণ দিলে মোটা অংকের ঘুষের টাকা পান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্র সোনালী ব্যাংক শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ফরহাদ হোসেনের অধিনে যতগুলো কৃষি লোন বিতরণ করা হয়েছে তার মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভূয়া এবং ভিত্তিহীন লোনের সংখ্যা বা পরিমাণ বেশি।

বিশেষ সুত্রে জানা গেছে, অনেক কৃষকের জমি না থাকলেও জমির জাল কাগজ তৈরিতে পরামর্শ দিয়ে গ্রাহকদের এভাবেও কৃষি লোন বিতরণ করতে সাহায্য করেছেন তিনি।

একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেকের জমির বৈধ কাগজ পত্রাদি থাকার পরেও তাদেরকে কৃষি ঋণ পেতে বহুবিধ হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অথচ অত্র সোনালী ব্যাংক শাখার কতিপয় দালালের মাধ্যমে ঘুষের বিনিময়ে শত শত ভূয়া/জাল জমির কাগজের উপর ভিত্তি করে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যাংক একাউন্ট চেক বই নিতে গেলে সেখানেও গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ থেকে ২ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, চেকবই নেওয়ার জন্য এনজাদুল প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও ৪ ব্যক্তির কাছ থেকে কৃষি ঋণ বিতরণের জন্য ২৬ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন তিনি।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক নওগাঁ বাজার শাখার কর্মকর্তা  ফরহাদ হোসেন ঘুষের টাকা দিয়ে পাকা বিল্ডিং বাড়ি তৈরি এবং নামে-বেনামে জমি ক্রয় করাসহ বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমিয়েছেন।

এ সকল বিষয়ে অত্র ব্যাংকের ম্যানেজার সব কিছু জানেন কিনা প্রশ্ন থেকেই যায়। ব্যাংকের এ অনিয়ম-দূর্নীতির তদন্ত করলে প্রমাণও মিলবে শতভাগ।

এ ব্যপারে অত্র সোনালী ব্যাংক নওগাঁ বাজার শাখার ম্যানেজার ফিরোজ হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার সোনালী ব্যাংকের অফিসারের বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট করবেন না। রিপোর্ট প্রকাশ হলে আমার ব্যাংকের ভাবমূর্তি  নষ্ট হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে