রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে বিএনপি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২২; সময়: ১১:২৬ am |
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে বিএনপি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে সে লক্ষ্যে ‘রাষ্ট্র মেরামত’ নামে একটি রূপরেখা প্রস্তুত করেছে বিএনপি। এই রূপরেখায় সংবিধানে স্থায়ীভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ প্রবর্তন, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ আইন, সাংবিধানিক সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ২৭ দফার রূপরেখা আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আজকে দেশের এই পরিস্থিতির জন্য বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সবাই দায়ী। ২৭ দফা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে তা ভাবার কোনো কারণ নেই। এই রূপরেখা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতারও পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে কোনো কিছুই পরিবর্তন হবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স  জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গাইডলাইন অনুযায়ী এই রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে এই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

এই রূপরেখা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিএনপি নেতারা বলেন, স্বাধীনতার ৫১ বছরেও রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দেওয়া হয়নি। বিএনপির ভাষ্যমতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গত ১৪ বছর টানা ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে ‘দুর্নীতি ও দলীয়করণ’ করে রাষ্ট্রকে মেধাশূন্য ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। এ অবস্থায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আন্দোলনরত দলগুলোর সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। তাতে জয়লাভ করলে চলমান সরকার হটানোর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই জাতীয় সরকারই ২৭ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার করবে। এই রূপরেখা চূড়ান্ত করার আগে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সমমনা রাজনৈতিক রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেয় বিএনপি। এ ছাড়া সমাজের বিশিষ্টজনদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

রূপরেখায় যা থাকছে : বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সংবিধান সংশোধনী ও পরিবর্তনসমূহ পর্যালোচনা করে-এসব রহিত করতে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রতিমূলক ‘রেইনবো ন্যাশন’ প্রতিষ্ঠা; জাতীয় সমঝোতা কমিশন গঠন এবং সংসদ সদস্যদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন প্রণয়নের বিষয় থাকছে রূপরেখায়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য আনা; দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন, শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিংসাপেক্ষে নিয়োগ, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন; জুডিশিয়াল কমিশন গঠন; সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিমকোর্টের নিয়ন্ত্রণে একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ও যোগ্যদের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে ৯৫ (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রবর্তন করা হবে। প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন; মিডিয়া কমিশন; দুর্নীতি প্রতিরোধে সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে।

এ ছাড়া গুম, খুন, ধর্ষণ বন্ধে ইউনিভার্সাল হিউম্যান রাইট চার্টার অনুযায়ী মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ, অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন; ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার-এই মূলনীতির ভিত্তিতে ধর্মপালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করা; শ্রমজীবীদের বৈষম্য দূর করতে বিশেষ কর্মসূচি; প্রতিরক্ষা বাহিনীকে যুগোপযোগী গড়া ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা, ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন ও শক্তিশালীরূপে গড়ে তোলা, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ, জাতীয় সংসদে নারী আসন বৃদ্ধিকরণ ইত্যাদি থাকছে এই রূপরেখায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে