ডেমরায় নারী-শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২২; সময়: ২:৩৮ pm |
ডেমরায় নারী-শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

পদ্মাটাইমস ডেস্ক :  রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ছয়তলা একটি আবাসিক ভবন থেকে পড়ে এক নারী ও তার শিশু সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- হালিমা বেগম (২৫) ও তার দেড় বছরের সন্তান সাদমান।

তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনো স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউ। এ ঘটনায় শাহীন নামে ওই নারী স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

রোববার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ডগাইর পূর্ব পাড়ার (সাবেক সানারপাড়) ৫৪৫ নম্বরের পাশের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই নারী তার স্বামীর সাথে ভবনটির পাঁচতলায় ভাড়া থাকতেন।

নিহতের স্বামী শাহীন আক্তারের দাবি, তার স্ত্রী সকালে ছাদে গিয়েছিলেন। পরে ফেরত না আসায় তিনি খুঁজতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে তিনি ভবনের পাশে থাকা ডোবার নিচে তার স্ত্রী ও সন্তানকে পড়ে থাকতে দেখতে পান। এরপার তিনি বিষয়টি বাসার মালিককে দ্রুত জানান। এরপর পুলিশ গিয়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর শিশুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাড়ির মালিক তাজুল ইসলাম জানিয়েছে, সকালের দিকে ওই নারীর স্বামী শাহীন তাকে ফোন করেন এবং জানান যে, তার স্ত্রী ছাদ থেকে পাশের ডোবায় পড়ে গেছে। তবে সেটি আত্মহত্যা নাকি অসাবধানতাবশত ছাদ পড়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী এটিকে হত্যা বলছেন। যদিও এখনো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কোনো ধরনের মন্তব্য করেনি।

ডেমরা থানার এসআই আউয়াল জানান, এ ঘটনায় ওই নারী ও শিশুর লাশ সুরতহাল করার জন্য ডেমরা থানায় আনা হয়েছে। এখনো মর্গে পাঠানো হয়নি বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনো তারা বলতে পারছেন না।

তবে ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন দুপুরে বলেন, প্রতিবেশী ও স্বজনদের অভিযোগ, নিহত নারীর সাথে তার স্বামীর ঝামেলা চলছিল। ফলে আমরা এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছি। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনো স্পষ্ট করে বলা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই প্রতিবেশীরা শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে ঢামেকে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ননদ হোসনে আরা দাবি করেছেন, নিহত নারীর সাথে তার স্বামীর কোনো ধরনের ঝামেলা ছিল না। তারা সুখেই সংসার করছিল। আজ সকালে নিহত হালিমার স্বামী তাকে ঘুম থেকে ওঠেই খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে দেখতে পান তিনি ও তার সন্তান ডোবায় পড়ে আছেন। এরপর তারা বিষয়টি বাসার মালিক ও পুলিশকে জানায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে