রাবি ছাত্রলীগের ৪ নেতার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২২; সময়: ১০:২৩ pm |
রাবি ছাত্রলীগের ৪ নেতার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পাসে গাঁজাসহ চারজনকে আটক করে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে কৌশলে দুজন পালিয়ে যান। সন্ধ্যায় নগরের মতিহার থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

মতিহার থানার ওসি আনোয়ার আলী বলেন, চার শিক্ষার্থীকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি গাঁজাসহ ধরেছিল। পুলিশের কাছে দুজনকে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি দুজন পলাতক। এ বিষয়ে এক পুলিশ সদস্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। এ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ শামসুজ্জোহা হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আরিফ বিন সিদ্দিক, ফোকলোর বিভাগে শিক্ষার্থী ও জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

পলাতক দুজন হলেন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান এবং তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেরে বাংলা একে ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রক্টরিয়াল বডি নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। তাদের সঙ্গে পুলিশও ছিল। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন শেখ রাসেল স্কুলের পশ্চিম পাশে বসে কয়েক শিক্ষার্থী মাদক সেবন করছিলেন। এ সময় ৩২৫ গ্রাম গাঁজাসহ চারজনকে আটক করে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে কৌশলে দুই শিক্ষার্থী পালিয়ে যান।

প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে মাদক সেবন বেড়েছে। বহিরাগতরা এসে এখানে মাদক বিক্রি করে থাকেন। তাঁদের সঙ্গে এ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়ছেন। কয়েক দিন ধরেই এ ধরনের ঘটনা চোখে পড়ছে। তাই তাঁরা ক্যাম্পাসে একটু বেশি তদারকি চালাচ্ছেন।

দুপুরে এ রকম পরিস্থিতিতে চারজনকে প্রক্টর দপ্তরে আনা হয়। তাঁদের কয়েকজনকে আগেও ‘শাসন’ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার তাঁরা মাদকসহ আটক হয়েছেন। তাঁরা এগুলো বিক্রির সঙ্গেও জড়িত। এ কারণে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে পুলিশ সদস্য ছিলেন। তাঁরা এ বিষয়ে একটি মামলা করেছেন।

দুজন পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রক্টর বলেন, চারজনকে আনা হয়েছিল। দুই শিক্ষার্থী ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এখনো নিশ্চিত হননি আসামিরা তাঁদের পদধারী কেউ কি না। তবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে