পাবনায় আ. লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২২; সময়: ১০:৫৩ am |
পাবনায় আ. লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পাবনা শহরে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এসময় শহরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে।

বুধবার রাতে পাবনা শহরে এই পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে কম্পিত হয় গোটা শহর।

নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও শিমুল বিশ্বাসের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপির খেয়াঘাটস্থ কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শহরের আব্দুল হামিদ রোডসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড় বাজারের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এসময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নেতাকর্মীরা।

বিএনপির বিক্ষোভের ঘন্টাখানেক পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের আব্দুল হামিদ রোড প্রদক্ষিণ করে আবার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশ বানচালের জন্য সরকার ও সরকারের পুলিশ বাহিনী পরিকল্পিতভাবে নয়াপল্টনে হামলা চালিয়েছে। শত শত নেতাকর্মীদের বুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছে। নেতাকর্মীদের হতাহত করেছে। পাবনার গণমানুষের নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের করেছে। সরকারের পতনে যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে আমরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

অপরদিকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, বিএনপি-জামায়াত আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রাজপথে আবার আগুন সন্ত্রাসের চেষ্টা করছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটি কর্মী বেঁচে থাকতেও বিএনপি-জামায়াতের সেই আশা সফল হতে দেব না। রাস্তায় নামলেই তাদের প্রতিহত করা হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের এমন পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কারণে জনমনে আতঙ্ক ও উত্তেজনা দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানদার বলেন, করোনার কারণে আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। এখন ব্যবসা কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু দেশের যে অবস্থা আবার শুরু হয়েছে তাতে দেশে কি হবে তা বলা মুশকিল। যেভাবে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ শুরু হয়েছে তাতে আমরা ভীষণ আতঙ্কিত। আবার দেশে কিছু একটা হলে আমরাই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হব।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে