ইসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া বদলি নয়

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০২২; সময়: ১২:২৯ pm |
ইসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া বদলি নয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত সব সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুসরণ করে যাতে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন সে নির্দেশ দেওয়ার জন্য তাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে ইসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া নির্বাচনী কাজে দায়িত্বে থাকাদের বদলি করা যাবে না, সে বিষয়টিও চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাবের মহাপরিচালক, বিভিন্ন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক, রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‌‌‘আগামী ২৭ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গত ৭ নভেম্বর সময়সূচি জারি করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ এবং আপিল নিষ্পত্তির জন্য রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।’

নির্বাচন সংক্রান্ত কার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হবে জানিয়ে এতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি এবং সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন। ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/সংস্থার স্থাপনা/ অঙ্গন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।’

উল্লেখ্য যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর বিধি ৩ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদান করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের যেকোনো ব্যক্তি বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারবে এবং অনুরূপভাবে নির্দেশিত হলে ওই ব্যক্তি বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ উল্লিখিত দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। এ বিধিমালার বিধি ৮৯ অনুযায়ী নির্বাচনের সময়সূচি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পর ১৫ দিন সময় পার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ব্যতীত বিধিতে উল্লিখিত কর্মকর্তাদেরকে অন্যত্র বদলি করা যাবে না। নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ অনুসারে কোনো ব্যক্তি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে তিনি তার নিয়োগের পর নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত তার চাকরির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে চাকরিরত আছেন বলে গণ্য হবেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিত সব সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত অফিস বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুসরণপূর্বক তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে