কম্বলকান্ড ঢাকতে সংবাদ সম্মেলন করলেন এমপি কবিতা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২২; সময়: ১:২২ pm |
কম্বলকান্ড ঢাকতে সংবাদ সম্মেলন করলেন এমপি কবিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : কম্বলকান্ড ঢাকতে সংবাদ সম্মেলন করলেন সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তার শক্তিপুরের বাসভবনে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন জানালেন, স্থানীয় এমপির নির্দেশেই চেয়ারম্যাদের কাছে কম্বল চাওয়া হয়েছিলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যোমদিয়ে।

সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি কোন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল ফেরত চাইনি। আমার নাম জড়িয়ে যারা বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বক্তব্য দিয়েছে তারা সঠিক বিষয় উপস্থাপন করেননি। পূর্ব আক্রােশ থেকে তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছেন। আমি বলেছি প্রতিটি ইউনিয়নে এ কম্বল বিতরণের সময় সেখানে আমি উপস্থিত থাকবো। তারা এটাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে।

তিনি আরও বলেন, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারীরা আমার বিরুদ্ধে নানা ভাবে প্রপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমার বক্তব্য না নিয়ে যারা এ ধরণের মিথ্যা প্রপাগান্ডার উপর ভিত্তি করে সংবাদ পরিবেশন করেছে তারা সঠিক সংবাদ না জেনে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করেছে। তাদের এটা করা ঠিক হয়নি।

তিনি আরও বলেন, গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন দূর্ণীতির সাথে জড়িত। তারা ভিজিএফ থেকে শুরু করে কোন প্রকল্পের কাজ সঠিক ভাবে না করে দূর্ণীতি করে। তাদের বিরুদ্ধে আমার কাছে একাধিক অভিযোগ আছে। তাই সঠিক ভাবে অসহায় দুস্থরা যাতে কম্বল পায় সে জন্য আমি কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত থাকতে চেয়েছি। এটা তারা মেনে নিতে পারেনি। কারণ আমি থাকলে তারা দূর্ণীতি করতে পারবেনা। এ জন্য তারা আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে। সবাই ফেরত দেয়নি, মাত্র ২জন দূর্ণীতিবাজ চেয়ারম্যান দূর্ণীতি করতে পারবেনা বুঝতে পেরে ফেরত দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এমপির বক্তব্য মিথ্যা বলে হাবিবুল্লাল নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাচ্ছু বলেন, এমপি তার কম্বলকান্ড ঢাকতে এই সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমরা কোন দূর্ণীতি করিনি। এমপি ও তার ছেলে মিলে সকল জায়গাতে সকল কাজে দূর্ণীতি করতেছে। টিআর কাবিখা সহ সকল প্রকল্পে এমপিকে ভাগ না দিলে কাজ করা যায়না। আমরা তার প্রতিবাদ করায় তিনি সাংবাদিকদের তার বাসায় ডেকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের নামে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে। মুলতো একটি ইউনিয়নে বিপুল সংখ্যাক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ রয়েছে। সেই মানুষগুলো মাঝে মাত্র ৩৫০পিচ কম্বল আমরা বরাদ্দ পেয়েছি যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আবার যদি এমপি মহোদয়কে ২০০ পিচ দেওয়া হয় তাহলে আমরা কিভাবে মানুষের মাঝে এই অল্প সংখ্যাক কম্বল বিতরণ করবো। তাই ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এমপির এমন বক্তব্যে উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিকৃয়া তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে এক উপজেলা আওয়ামী নেতা বলেন দলের এমপির এমন বক্তব্যে দলের মধ্যে বিভাজন ও চেয়ারম্যানদের সাথে এমপির দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে। আওয়ামীলীগ একটি বড় দল এখানে নেতৃত্ব স্থানীয়দের আরো সংযতো হয়ে কথা বলা উচিত।

শনিবার শাহজাদপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি সকল চেয়ারম্যানকে ফোন করে জানিয়েছেন, বরাদ্দকৃত কম্বল থেকে ২শ কম্বল স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জন্য রাখতে হবে। এটি তিনি নিজে বিতরণ করবেন। আর বিষয়টি মানতে নারাজ ইউপি চেয়ারম্যানরা। আর এজন্যেই বৃহস্পতিবার সকালে ৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা কম্বল ফেরত দিয়ে গেছেন। সেগুলো উপজেলা গুদামে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৪ হাজার অসহায় শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফেরত দেন। তাদের দাবী প্রতিটি ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত ৩৫০ কমাবলের মধ্যে ২০০ কম্বল এমপি ফেরত চেয়েছে। তাই এই সামান্য কম্বলে তাদের হবেনা বিধায় তারা বরাদ্দের সব কম্বল শাহজাদপুর ইউএনও অফিসে ফেরত দিয়েছেন।

এ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ ও মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে