সমাবেশস্থলে পুলিশ, পাশে উৎসবের আমেজে কর্মীরা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২২; সময়: ৯:৩০ pm |
সমাবেশস্থলে পুলিশ, পাশে উৎসবের আমেজে কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেই রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশস্থলের আশপাশে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা; তারা উৎসবের আমেজে সেখানে সময় কাটাচ্ছেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের গণসমাবেশ ও মাইক ব্যবহারের অনুমতির শর্তে সমাবেশের দিন অর্থাৎ শনিবারের আগে সমাবেশস্থল মাদ্রাসা মাঠে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় নেতাকর্মীরা ভীড় করেছেন পাশের ঈদগাহ মাঠে।

মাদ্রাসা মাঠে শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তারা মাঠের একপাশে অবস্থান নিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। অদূরে শনিবারের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করছেন ডেকোরেশনের কর্মীরা।

বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশে সাংগঠনিক বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। এসব সমাবেশকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ স্থানে পরিবহন ধর্মঘট ডাকায় নেতাকর্মীরা এক-দুদিন আগেই সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন। সেখানে রাত্রিযাপন করে সমাবেশ শেষ করে ফিরে যান।

কিন্তু রাজশাহীর ক্ষেত্রে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জমায়েত হতে পারছেন না। বুধবার পুলিশের পক্ষ থেকে নগরীর হাজী মুহম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ যা স্থানীয়ভাবে ‘মাদ্রাসা মাঠ’ নামে পরিচিত সেখানে গণসমাবেশে অনুমতি দেওয়া হলেও; শনিবারের আগে জমায়েত হওয়া যাবে না বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে।

ফলে নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাদ্রাসা মাঠের পাশে ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হচ্ছেন। মাদ্রাসা মাঠ আর ঈদগাহ ময়দানের মাঝখানে একটি পুকুর আর একটি ভবন রয়েছে।

বিএনপি নেতারা জানান, সমাবেশকে ঘিরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দুদিন আগে থেকেই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত বিশালকার এ মাঠটি জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে অন্তত দুই শতাধিক তাবু। হাজার হাজার নেতাকর্মী সেখানেই অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবারই মাঠটি ভরে গেছে তাবুতে।

শুক্রবার সকাল থেকে নেতাকর্মীদের জন্য মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংস, সবজি, খিচুড়িসহ নানা রকমের খাবার রান্না করা হচ্ছে। মিছিল, স্লোগান, আলোচনা, আড্ডার পাশাপাশি সেখানেই খাবার খেয়ে নিচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

সকালে গিয়ে দেখা গেছে, ক্যাম্পে ক্যাম্পে চলছে রান্না ও খাবারের আয়োজন। ক্যাম্পগুলোতে মজুদ করে রাখা হয়েছে চালের বস্তা, তেল ও রান্নার সামগ্রী। কয়েকজন নারীকে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ কাটতে দেখা যায়।

প্রতিটি ক্যাম্পেই আলাদা আলাদাভাবে বড় বড় ডেকচিতে রান্না হচ্ছে। ৩০ থেকে ৪০টি চুলায় রান্নার কাজ চলছে। একসঙ্গে রান্না, খাওয়া ও আড্ডা দেওয়াসহ সব মিলিয়ে সেখানে এখন উৎসবমুখর বনভোজনের পরিবেশ বিরাজ করছে।

জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা মিলে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে নিয়ে পাবনার নেতাকর্মীদের একটি অংশ মাঠে মিছিল বের করে। এর কিছুক্ষণ পরেই ছাত্রদলের নেতারা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ঈদগাহ মাঠে এসে পৌঁছান।

দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদগাহ মাঠ ঘিরে সেখানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। কেউ রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা-সিগারেট, পান কিনে খাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ তাবুর ভিতরে বসেই তাস খেলায় মেতে উঠেছেন। কেউ কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন।

বিএনপির গণসমাবেশ সমন্বয় কমিটির আপ্যায়ন উপ-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাফিকুল ইসলাম শাফিক বলেন, “নেতাকর্মীদের বিশ্রামের জন্য ২০০ বেশি তাবু টাঙ্গানো হয়েছে। এ ছাড়া তাদের খাওয়ানের জন্য প্রায় ৪০টি চুলায় রান্না হচ্ছে।“

মাঠে অবস্থানরত বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, ধর্মঘটের মধ্যে আসতে অসুবিধা হবে বলে তারা আগে আগেই সমাবেশে চলে এসেছেন। এখানে অনেকের সঙ্গে কথা হচ্ছে, ভাল সময় কাটছে। শনিবার সমাবেশ শেষ করে তারা বাড়ি ফিরে যাবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে