রাজশাহীর ঈদগাহ মাঠে সময় কাটছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২২; সময়: ৯:৫০ pm |
রাজশাহীর ঈদগাহ মাঠে সময় কাটছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণসমাবেশকে কেন্দ্র রাজশাহীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বুধবার রাত থেকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে অবস্থান করতে শুরু করে। সমাবেশের পাশে ঈদগাহ মাঠে শুয়ে-বসে সময় কাটাতে তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহীর ঈদগাহ মাঠে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা ত্রিপল বিছিয়ে ছামি আনা টাঙ্গিয়ে শুয়ে পড়েছেন। কেউ বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা গেছে। আবার এক পাশে চলছে রান্নার। কেউ খবার নিয়ে যাচ্ছেন।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দুদিন আগেই ঈদগাহ মাঠে অবস্থান নিয়েছেন নাটোরের জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি বলেন, ৩ তারিখের এ সমাবেশকে সফল করতে যে কোনো কিছু করতে পারি। সরকার আমাদের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে ধর্মঘট দিয়েছে। তবে কোনোভাবেই আমাদের এ গণজোয়ার রুখতে পারবে না তারা। এ সরকারের পতনের মাধ্যমে আমাদের এ আন্দোলন থামবে।

নওগাঁ থেকে আগত বিএনপি কর্মী সেলিম বলেন, দুদিন আগে আমরা সমাবেশে এসেছি। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ সরকার ভোট চোর। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি। এ সংগ্রামে জয়ী না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।

এদিকে, দুপুরে গণসমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশে আসতে পথে পথে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেন তারা। মিনু সাংবাদিদের বলেন, শত বাধা সত্ত্বেও রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল হবে।

তিনি বলেন, সরকারের পেটুয়া বাহিনীর সদস্যরা গণসমাবেশ বানচাল করতে নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। বুধবার রাত থেকেই রাজশাহীর প্রবেশপথে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। যানবাহন থেকে নামিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের নিদারুণ কষ্ট দিচ্ছে। নেতাকর্মীরা সব বাধা উপেক্ষা করে রাজশাহী শহরের প্রবেশ করছেন।

তিনি বলেন, গণসমাবেশের জন্য মাদ্রাসা মাঠে ডেকোরেশেনের কাজ শুরু করলে তাঁবু ও ডেকোরেশনের উপকরণ ভেঙে ফেলা হয়। নেতাকর্মীদের মারপিট করে মাদ্রাসা মাঠ থেকে বের করে দেয় পুলিশ। তবে যতই বাধা দিক, কানায় কানায় ভরে যাবে পুরো শহর।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এরই মধ্যে মাদ্রাসা মাঠ এলাকা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীতে ভরে গেছে। আজ রাতের মধ্যেই মঞ্চ ও মাঠের ডেকোরেশন কাজ শেষ হবে। নেতাকর্মীরা ঠিক সময়ের মধ্যে মাদ্রাসা মাঠে প্রবেশ করবেন। নেতারাও সময়ের মধ্যে রাজশাহী এসে পৌঁছাবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম ওবায়দুর রহমান চন্দন, সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে