লেখা পড়া নিয়ে দুঃচিন্তায় তিশা-মিম, ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় আসাদুজ্জামান

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২২; সময়: ২:১৪ pm |
লেখা পড়া নিয়ে দুঃচিন্তায় তিশা-মিম, ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় আসাদুজ্জামান

জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক, বাঘা : পিতার রোজগারের আয় দিয়ে সংসার চলে না বলেই লেখাপড়া প্রায় বন্ধের দিকে চলে যাচ্ছিল। তার পরেও থেমে না থেকে শিক্ষার্থীর নিজের আয় আর মায়ের যোগান দেওয়া টাকায় চালিয়ে গেছে লেখাপড়া। তারা পায়নি ভালো কোন পোষাক কিংবা খাবার। অভাবের বাঁধ ভেঙে এবার এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্য অর্জন করেছে দরিদ্র পরিবারের তিন মেধাবী শিক্ষার্থী । সাফল্য ধরে রাখার পণ করলেও অর্থের কাছে হেরে যাবে কি-না,তা নিয়ে এখন বড় দুঃচিন্তা তাদের। তবে হৃদয়বান ব্যক্তির সহযোগিতা পেলে স্বপ্ন পূরণে কোন বাঁধা থাকবেনা। এই ৩ শিক্ষার্থীর দুইজনের পিতা ভ্যান চালক, আরেক জনের পিতা রাজমিস্ত্রী। সম্বল বলতে বাড়ি ভিটার সামান্য জমি।

মোঃ আসাদুজ্জামান (আকাশ), লেখা পড়ার ফাঁকে আর ছুটির দিনে পিতার সাথে রাজমিন্ত্রির কাজ করে লেখা পড়ার খচর চালিয়েছে আসাদুজ্জামান (আকাশ)। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইসলামী একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয় কারিগরি ও কৃষি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন তার।

বাঘা পৌর সভার উত্তর গাওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আসলাম-গোলাপি দম্পতির ছেলে আসাদুজ্জামান (আকাশ)। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি,মা গৃহিণী। ৩ সদস্যর সংসার। ফলাফলে খুশি হলেও আবেগজড়িত কন্ঠে মা গোলাপি বেগম বলেন, ছেলের সব চাহিদা কখনো মেটাতে পারিনি। বাড়িতে কাথা সেলাইয়ের কাজ করে সামান্য টাকা তার হাতে দিতে পেরেছেন।
মোসাঃ তিশা খাতুন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ভ্যান চালিয়ে ৬ সদস্যর সংসার চালান তার বাবা। টান পোড়নের সংসারে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালিন সময়ে তিশা খাতুনের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তার বাবা। মায়ের বাঁধায় আর তিশা খাতুনের অনিচ্ছায় বিয়ে আর হয়নি। মা সাজেদা বেগম হাঁস-মুরগি পালন করে টাকা যোগান দিয়েছে। তিশা খাতুন নিজেও টিউশনি করে খরচ চালিয়েছে।

বাজুবাঘা নতুন পাড়ার শামিম-তহমিনা দম্পতির মেয়ে মোসাঃ তিশা খাতুনের স্বপ্ন শিক্ষক হওয়ার। তবে সাফল্য ধরে রাখার বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থ। তার মা সাজেদা বেগম চোখের অশ্রু ফেলে বলেন, মেয়েকে পড়াতে না পারলে বিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবেনা।

মোসাঃ মিম খাতুন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইসলামী একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়, কারিগরি ও কৃিষ কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সংসারে অভাব দেখে তার বাবা তাকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। নিজের আগ্রহ,আর বান্ধবীর অনুপ্রেরণায় তার এই সাফল্য। লেখা পড়া করেছে,বান্ধবীর কাছ থেকে গাইড বই,নোট নিয়ে আর বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়ায়ে সহয়োগিতা করেছেন স্থানীয় শিক্ষক সাহাদুল ইসলাম। নিজের খরচ চালাতে ফাঁকে ফাঁকে করেছে টিউশনি মিম খাতুন। বাঁধা হয়ে না দাড়ালে তার স্বপ্ন সেবিকা হিসেবে পড়াশোনা করার। সে জানায়,করোনাকালিন সময়ে মানুষের দুর্রাবস্থা দেখে সেবিকা হওয়ার স্বপ্ন তার।

উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল-মিনা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে মোসাঃ মিম খাতুন। ভ্যান চালক বাবার ৪ সদস্যর সংসার। মেয়ের ফলাফলে অভিভূত হয়ে গৃহিনী মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,সাফল্যে এখানেই শেষ হবে কি-না তা নিয়ে শঙ্কিত।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দরিদ্র মেধাবীদের ফলাফলে খুশি হলেও তাদের লেখা পড়া নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মা।

শাহদৌলা সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল হানিফ মিঞা বলেন, ফলাফল ভালো করে মা-বাবা ও প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জল করেছে। তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হলে কোন সুহৃদয় ব্যক্তিকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন । তা না হলে প্রবল ইচ্ছা শক্তির কাছে ভবিষৎতে অর্থের কাছে হার মানতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে