কোচিং ফি না দেওয়ায় পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে টালবাহানা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২২; সময়: ১০:৫৯ am |
কোচিং ফি না দেওয়ায় পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে টালবাহানা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চালিত কোচিং সেন্টারের ফি পরিশোধ না করায় পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে অভিবাবকরা ধার-দেনা করে কোচিংয়ের ফি পরিশোধ করছেন।

এর আগে ওই বিদ্যালয়ের ভেতরে বিগত ৪ মাস যাবৎ প্রকাশ্যে কোচিং বাণিজ্য করে আসছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

জানা যায়, ৬ষ্ঠ হতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কৌশলে কোচিং করতে বাধ্য করে থাকেন ওই স্কুলের শিক্ষকরা। সপ্তাহে ৩দিন করে দুই বিষয়ের উপর পড়িয়ে আদায় করা হয় ৬০০ টাকা। গত ২৮ নভেম্বর থেকে ওই বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু গরিব অসহায় অনেক শিক্ষার্থী কোচিংয়ের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র পেতে বেশ ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে। কেননা কোচিং ফি না দেওয়া পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না বার্ষিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কোচিংয়ের ফির জন্য কোনো রিসিট দেওয়া হয় না। আমাদের কোচিং শুরুর আগেও অভিভাবকদের কাছ থেকে কোনো সম্মতিও নেওয়া হয়নি। এখন শুনছি আমাদের কাছে কোচিং ফরম দেওয়া হবে। তা পরিবার হতে স্বাক্ষর করে জমা দিতে হবে।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিয়াঙ্কার মা স্বরস্বতী মন্ডল বলেন, আমার ৩ মেয়ে বিদ্যালয়ে পরে। তাদের বই খাতার খরচ যোগাইতেই আমাদের কষ্ট হয়। পরীক্ষার ফি দেওয়ার পরেও আমার মেয়ের প্রবেশপত্র দেয় নাই। শিক্ষকরা বলেন কোচিংয়ের টাকা না দিলে প্রবেশপত্র দেবে না। পরে আমি কোচিংয়ের টাকা ধার-দেনা করে পরিশোধ করে স্কুল থেকে প্রবেশপত্র আনি।

ওই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী অংকনের মা নাসিরন বেগম বলেন, বার্ষিক পরিক্ষার প্রবেশপত্র আনার জন্য স্কুলে গেলে শিক্ষকরা বলছে কোচিংয়ের টাকা না দিলে দেবে না। পরে বলে আমার মেয়ের এক মাসের কোচিংয়ের ৬০০ টাকা পায়। আমি কষ্ট করে ৬০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা দিয়ে হাতে পায়ে ধরে প্রবেশপত্র নিয়েছি।

৯ম শ্রেণির অপর শিক্ষার্থী সুমাইয়ার মা রীনা বেগম বলেন, আমার স্বামী ডিম বিক্রি করে। মেয়ে বলে কোচিংয়ের টাকা না দেওয়ায় স্যারের তাকে অপমান করছে। পরে আমি ২ হাজার টাকা ঋণ করে কোচিংয়ের টাকা পরিশোধ করে প্রবেশপত্র নিয়ে এসেছি।

অপর অভিভাবক আরিফা বেগম বলেন, আমার দুই মেয়ে ৬ষ্ঠ ও ৮ ম শ্রেণিতে পরে। তাদের স্কুলের স্যাররা দুইটা বিষয়ে পড়িয়ে মাসে ৬০০ করে টাকা নিচ্ছে। লোকজনকে তারা বলে তারা চার বিষয় পড়ায়। তারা মিথ্যা কথা বলছেন। যেমনে পারছেন টাকা আদায় করছেন।

নবম শ্রেণির এক ছাত্র বলেন, আমরা কোচিং করার সকল টাকা পরিশোধ করে তারপর প্রবেশপত্র পেয়েছি। কারণ টাকা পরিশোধ না করলে ক্লাসে স্যাররা সবাইকে অপমান করেছে।

এ ব্যপারে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসেন বলেন, আমরা ক্লাসে ওপেন ঘোষণা দিয়েছি তোমরা কোচিং করে যে পরিমাণ টাকা পারো দিও কেও না পারলে না দিও। কেউ ৬০০ দিছে কেউ ৩০০ দিছে কেউ দেয়নি। আমরা কাউকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করি নাই। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান ভালো হওয়ার জন্য কোচিং করিয়েছিলাম।

বেতকা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন আল মামুন বলেন, আমরা টাকার জন্য কোনো শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আটকে রাখিনি। স্কুলের সকল শিক্ষার্থীই পরীক্ষা দিচ্ছে। কেউ টাকা পরিশোধ করেই দিচ্ছে কেউ আবার টাকা পরিশোধ না করেই দিচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন বলেন, যদি ওই স্কুলে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে অভিবাবকরা আমার কাছে অভিযোগ করলে অবশ্যই আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে