প্লুটোর আসল ছবি ধরা পড়ল নাসার ক্যামেরায়

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২২; সময়: ১১:৪৬ am |
প্লুটোর আসল ছবি ধরা পড়ল নাসার ক্যামেরায়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সৌরজগতের বামনগ্রহ হিসেবে অনেকেই প্লুটোকে চেনেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটাকে গ্রহ বলতেও নারাজ। কেননা, প্লুটোর কক্ষপথ স্বতন্ত্র নয়। রং এটি এর কক্ষে আবর্তনকালে নেপচুনের কক্ষের মধ্যে ঢুকে পড়ে। প্লুটোকে নিয়ে খুব বেশি একটা জানাও যায়নি। তবে এর সম্প্রতিক ছবি প্রকাশ্যে এলে গ্রহটিকে নিয়ে নতুনভাবে জানার সুযোগ এসেছে।

সম্প্রতি মার্কিন মহকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্লুটোর একটি আকর্ষণীয় ছবি শেয়ার করেছে। ওই ক্লোজ আপে ধরা পড়েছে প্লুটোর সত্যিকারের রঙ। নিউ হরাইজন মহাকাশযান দ্বারা এই ছবিটি তোলা হয়েছে। প্লুটো থেকে ৩৩ হাজার ৪৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে তোলা ছবিটি তার ‘হার্ট’ দেখিয়েছে, যা নাইট্রোজেন এবং মিথেন দিয়ে তৈরি একটি বিশাল হিমবাহ।

আগে প্লুটো স্বতন্ত্র গ্রহ হিসেবেও পরিচিত ছিল। সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে একে সবাই চিনত। কিন্তু ২০০৬ সালে সেই গ্রহকেই বামন গ্রহে নামিয়ে দেওয়া হয়। তার কারণ, আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা ইউনিয়ন (এআইউ) দ্বারা বিবেচিত একটি পূর্ণ আকারের গ্রহের সমস্ত মানদণ্ড পূরণ করতে অক্ষম হয় গ্রহটি।

প্লুটোর ছবি নাসা শেয়ার করে বলেছে, ‘প্লুটোর তলে রয়েছে অজস্র ফাটল, গর্ত, ট্যান পড়েছে। সামগ্রিক ভাবে রঙিন সাদা হলেও একটা অংশ বাদামি-লাল।’

বামন গ্রহের আংশিকভাবে দৃশ্যমান ‘হৃদয়’ হল ‘নাইট্রোজেন এবং মিথেন দিয়ে তৈরি একটি টেক্সাস-এবং-ওকলাহোমা-আকারের হিমবাহ।’ এদিকে, সাদা এবং ট্যান রঙগুলো বাদামি-লাল পৃষ্ঠের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য উপরের দিকে তা দৃশ্যমান হয়েছে।

আয়তনের দিক থেকে প্লুটো ১৪০০ মাইলের সামান্য বেশি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থের প্রায় অর্ধেক বা চাঁদের প্রস্থের দুই তৃতীয়াংশ। ছোট এই গ্রহের পৃষ্ঠটি পানি, নাইট্রোজেন এবং মিথেন দিয়ে তৈরি বরফাবৃত প্লুটোর কেন্দ্রটি পাথুরে বলে গবেষকরা জানিয়েছিলেন।

সম্ভাব্য গভীর সমুদ্রের গ্রহটির গড় তাপমাত্রা মাইনাস ৩৮৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ২৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্লুটো অন্যান্য গ্রহের মতো ‘নিখুঁত বৃত্ত’ আকৃতির নয়। বরং অনেকটাই ডিম্বাকৃতির।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে