জয়পুরহাটের বিএনপির ১৮ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৮০ নেতাকর্মীর নামে বিস্ফোরক মামলা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২; সময়: ৬:৫৩ pm |
জয়পুরহাটের বিএনপির ১৮ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৮০ নেতাকর্মীর নামে বিস্ফোরক মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের কালাইয়ে বিএনপির ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭০ থেকে ৮০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইন তৎসহ ১৫(৩)১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কালাই পৌর বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গোপনে আসন্ন রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ ও ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করার জন্য এবং সরকারি স্থাপনায় নাশকতা ও অর্ন্তরঘাত মূলক কর্মকান্ড সংঘঠন করে দেশের অভ্যন্তরে আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্ঠির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি মূলক সভা করছিলেন উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

সেখানে সভা চলাকালিন সময়ে দলীয় কোন্দলের কারনে তাদের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিতে উভয় পক্ষকে লাঠি চার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় তারা ঘটনা স্থল থেকে যে যার মত পালিয়ে যায়। পরে বিএনপির কার্যালয় থেকে পুলিশ চটের বস্তার মধ্যে রক্ষিত লাল কসটেপ দ্বারা পেঁচানো অবিস্ফোরিত দুটি ককটেল, ২১টি বাঁশের লাঠি ও ৭টি কাঠের বাটাম উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কালাই থানার এসআই আল ইমরান বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির একাংশের আহবায়ক ইব্রাহিম হোসেন ও যুগ্ম আহবায়ক মওদুদ আলমসহ ১৮ জনের নাম উল্লেক করে অজ্ঞাত আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামী করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ ও ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করার জন্য বুধবার রাতে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতা ইব্রাহিম হোসেন তার লোকজনদের নিয়ে বাজারের ভিতরে তাদের দলীয় কার্যালয়ে সভা করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে হট্টোগোল বাঁধে। সেখানে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে শান্ত করতে চেষ্ঠা করে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠি চার্জ করলে যে যার মত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ইব্রাহিম হোসেন তার মুঠোফোনে বলেন, সমাবেশ সফল করতে বুধবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে আমরা বসেছিলাম বটে কিন্তু জেলা বিএনপির কোনো সিদ্যান্ত না পাওয়ায় আমরা তাৎক্ষনিক সভা না করে সেখান থেকে চলে যায়। আসলে সমাবেশে লোকজন যাতে করে উপস্থিত হতে না পারে সে কারনেই এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার কারনে লোকজন এলাকা ছাড়া হয়েছে। এটা তাদের একটা কৌশল ছাড়া কিছুই না।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২ টি অবিষ্ফোরিত ককটেল, বাঁশের লাঠি ও বাটাম জব্দ করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে