পুলিশের দাবি ২০০ কেজি গাঁজা খেয়েছে ইঁদুর

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২; সময়: ৩:৪৯ pm |
পুলিশের দাবি ২০০ কেজি গাঁজা খেয়েছে ইঁদুর

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মাদক চোরাকারবারিদের কাছ থেকে জব্দ করা গাঁজা পুলিশ স্টেশনে রাখার পর সেগুলো ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে বলে আদালতে দাবি করেছে ভারতীয় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের একটি আদালত মথুরা জেলায় ‍মাদক চোরাকারবারের তিনটি মামলায় পুলিশকে প্রমাণ হিসেবে জব্দ করা গাঁজা আদালতে উপস্থাপন করার নির্দেশ দিলে একটি মামলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ জানায়, তাদের ‘স্টেশনে রাখা জব্দকৃত ১৯৫ কেজি গাঁজার পুরোটাই ইঁদুর খেয়ে ফেলেছে’।

অন্য একটি মামলায় জব্দ করা ৩৮৬ কেজি গাঁজার ‘কিছু অংশ ইঁদুর খেয়ে ফেলেছে’ বলে দাবি করে সেই মামলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ স্টেশন।

বিচারক সঞ্জয় চৌধুরি বলেন, মথুরা জেলার একাধিক পুলিশ স্টেশনে প্রায় ৭০০ কেজি জব্দকৃত গাঁজা পড়েছিল। যেগুলোর সবটাই ইঁদুরে নষ্ট করে ফেলার ঝুঁকিতে ছিল।

তিনি বলেন, ‘ইঁদুর খুবই ছোট প্রাণী এবং পুলিশের প্রতি তাদের কোনও ভয় নেই। তাদের হাত থেকে গাঁজা রক্ষা করা খুবই কঠিন।’

কীভাবে ইঁদুরের মত ছোট প্রাণীর হাত থেকে গাঁজা রক্ষা করা যায় সে বিষয়ে ওই পুলিশদের কোনো জ্ঞান ছিল না বলেও জানান বিচারক।

তিনি বলেন, ‘ইদুঁরের মত বেপরোয়া’ প্রাণীর কাছ থেকে জব্দকৃত পণ্য সুরক্ষার একমাত্র পথ ছিল গবেষণাগার ও ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য ওই গাঁজা নিলামে তোলা এবং বিক্রি করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা।

এ বিষয়ে মথুরা জেলা পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, তার অধীনে থাকা কয়েকটি থানায় মজুদ রাখা গাঁজা ‘ইঁদুরে খায়নি, বরং ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সেগুলো নষ্ট হয়েছে’।

শুধু ভারতের পুলিশ এমনটা দাবি করেছেন তা কিন্তু নয়। বরং ২০১৮ সালে এই দাবি করার কারণে আর্জেন্টিনার আট পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তারা দাবি করেছিল, পুলিশের গুদামঘর থেকে অর্ধটন গাজা গায়েব হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী ইঁদুর।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ‘প্রাণীরা সাধারণত মাদক আর খাবার দুটোকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলে না।

আর যদি ধরেই নেওয়া হয় যে, ইঁদুরের একটি বিশাল দল গুদামঘরের গাঁজা খেয়ে নিয়েছে, তবে সেখানে অনেক মরা ইঁদুর পড়ে থাকার কথা।’

২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণাগারে ইঁদুরকে গাঁজা আছে এমন ওষুধ দেওয়ার পর দেখা গেছে ‘সেগুলো ঝিমিয়ে পড়েছে এবং দেহের তাপমাত্রাও কমে গেছে’।

২০১৭ সালে বিহারের পুলিশ ইঁদুরের কাঁধে জব্দ করা কয়েক হাজার লিটার মদ খেয়ে ফেলার দায় চাপিয়েছিল। তার এক বছর আগে বিহার রাজ্য সরকার মদ বেচা-কেনা নিষিদ্ধ করেছিল।

এছাড়া ২০১৮ সালে আসামের একটি এটিএম বুথে ১২ লাখ রুপির নোট ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সময় এই ঘটনায় ইঁদুর দায়ী বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে