দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২; সময়: ২:৩১ pm |
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিগত বছরের তুলনায় এ বছরও হিমালয়কন্যা ও শীতের জেলা নামে খ্যাত দেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমালয়ে হিম বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে তাপমাত্রা, বৃদ্ধি পাচ্ছে শীতের তীব্রতা।

গত এক সপ্তাহ ধরে সকালে তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দিনের বেলা সারাদিন উজ্জ্বল রোদ আর গরম আবহাওয়া থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় হিমেল হাওয়া। কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ।

শুক্রবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত কয়েক দিন ধরেই এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, হিমালয়ের পর্বতের অনেক কাছাকাছি অবস্থান দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। ফলে প্রতিবছর এ জেলায় অন্যান্য জেলার তুলনায় আগেভাগে শীতের আগমন ঘটে। স্থায়ীত্ব থাকে দীর্ঘসময়। কারণ উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমালয়ের হিম বায়ুর কারণে তাপমাত্রা নিম্ন হয়ে এক অঙ্কের ঘরে এসে পৌঁছায়। ফলে এ জেলায় কনকনে শীত অনুভূত হয়। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার ১৫ দিন আগেই এ জেলায় শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই হিমেল বাতাস ও কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারপাশ। দিন দিন এভাবে তাপমাত্রা হ্রাস পায় ও শীত অনুভূত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নভেম্বর থেকেই এখানে শীতের প্রকোপ শুরু হয়। তবে দিনের বেলায় রোদ থাকলেও ভোরে কমছে তাপমাত্রা। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশা পড়তে দেখা গেছে। ধীরে ধীরে শীতের আমেজ শুরু হচ্ছে এ জেলায়। সন্ধ্যা হলেই শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর কুয়াশার সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে পঞ্চগড়ে। ভোর ৫টা থেকে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যায়। কুয়াশার কারণে নদী তীরবর্তী মানুষরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা চলে যায়। বিকেল হলেই রোদের তীব্রতা কমে গিয়ে ঠাণ্ডার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় জেলা শহরের রিকশাচালক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত বছরের তুলানায় এবার আগেভাগেই শীত নামতে শুরু করেছে। দিনের বেলা রোদ থাকলেও সন্ধ্যা হলেই বাতাস ও ঠান্ডা নামতে শুরু করে। কয়েক দিন ধরে গরম কাপড় পড়তে শুরু করেছি। জানি না এবার কী হয়।

একই কথা বলেন জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার পাথর শ্রমিক রাশেদ ইসলাম। তিনি বলেন, শীত সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় আমাদের তেঁতুলিয়ায়। কিন্তু সরকারি বা বেসরকারিভাবে তেমন কোনো শীতবস্ত্র পাই না আমরা। যা পাওয়া যায় সেগুলো পাতলা কম্বল। লেপ নাই বাড়িতে এমন কোনো মানুষ নেই। তবে আমরা চাই গরম মোটা কাপড়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় শীতের প্রকোপ পড়তে শুরু করেছে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ধীরে ধীরে ঠাণ্ডার পরিবেশ বিরাজ করতে শুরু করেছে। সামনে আরো তাপমাত্রা কমবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে