২৪ ঘণ্টায়ও ধরা পড়েনি দুই জঙ্গি, শনাক্ত হয়নি মোটরসাইকেল

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২২; সময়: ১:৫০ pm |
২৪ ঘণ্টায়ও ধরা পড়েনি দুই জঙ্গি, শনাক্ত হয়নি মোটরসাইকেল

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দিনে-দুপুরে পুলিশের কাছ থেকে দুই জঙ্গি আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। এখনও পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের যারা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তারাও আছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। যে মোটরসাইকেলে করে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে সেটাও শনাক্ত হয়নি।

তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশিদ সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে জানিয়েছেন, ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিরা নজরদারিতে আছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এছাড়া এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্যরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (২০ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১টার এই ঘটনায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে ঢাকার প্রতি বিভাগের ট্রাফিক ডিভিশনকে করা নজরদারি এবং চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। সেই অনুযায়ী কাজও করছেন পুলিশের সদস্যরা। ‌

সোমবার (২১ নভেম্বর) সকালে লালবাগ ডিভিশনের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি মেহেদী হাসান বলেন, আসামি ধরার ব্যাপারে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি, তবে আমরা পুলিশকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছি। রাস্তায় অথবা চেকপোস্টে কোনো ধরনের তল্লাশি প্রয়োজন হলে তা করা হচ্ছে। আমরা ছাড়াও পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর টিম কাজ করছে।

এদিকে এই ঘটনার ওই সময় পুলিশ সদস্যদের কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যৎ করণীয় কী এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ও গঠন করেছে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এ কাজে পুলিশের কোনো অবহেলা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিলে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হলেও বাকি দুজনকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যার পরে কোতোয়ালি থানায় ২০ থেকে ২২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

লালবাগ ডিভিশনের কোতোয়ালী জোনের এডিসি সাইফুর রহমান বলেন, তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন, তবে আপডেট দেওয়ার মতো এখন পর্যন্ত কিছু নেই। তবে জঙ্গিদের হাতে কীভাবে প্রিপার স্প্রে এলো সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‌

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রোববারের ঘটনায় দশজন জড়িত। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। চার জঙ্গিকে এক আদালত থেকে আরেক আদালতে নেওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে। চারজন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে আদালতে ১২ জঙ্গিকে হাজির করা হয়েছিল। গতকাল গ্রেপ্তারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড নেওয়া হয়েছে।‌‌ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্যও মিলেছে।

লালবাগ পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনাটি জঙ্গি সংগঠনের এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃতরা। আর সেই বড় ভাই হলেন জঙ্গি মেজর জিয়া। গ্রেপ্তারকৃতরা জানতেন রোববার দুপুরে তাদের আদালত চত্বর থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের এমন তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি এজাহারেও উল্লেখ করা হয়েছে। ‌এজাহারে বলা হয়েছে, পলাতক জঙ্গি মেজর (বরখাস্ত) জিয়াউল হক জিয়ার নির্দেশ ও পরিকল্পনায় এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কারাগার থেকে আদালত চত্বরে এর আগে জঙ্গি সদস্যদের ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আনা হতো। কিন্তু গতকাল এমন কিছু ছিল না। পাশাপাশি আরও প্রশ্ন উঠেছে, এর আগে প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও তা থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন। ফলে রোববারের ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তারা বলছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কেন ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে এবং ব্যাপক নিরাপত্তার মাঝে আদালতে আনা হলো না।

লালবাগ ডিভিশনের ডিসি জাফর আহমেদ জানান, বিষয়টি নিয়ে লালবাগ ডিভিশনের পুলিশ সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। তবে যে মোটরসাইকেলে জঙ্গি দুই সদস্যকে পালিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। পাশাপাশি সেটির পেছনে থাকা নম্বর প্লেটটির নাম্বার ছিল কি না তাও তারা জানতে পারেননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে