তীব্র ইচ্ছশক্তিতে ভাগ্য বদল ফ্রিল্যান্সার স্বানের

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২২; সময়: ১:৪৬ pm |
তীব্র ইচ্ছশক্তিতে ভাগ্য বদল ফ্রিল্যান্সার স্বানের

আল ফাহরী-উল ইসলাম : বর্তমান সময়ে আউটসোর্সিংয়ের দিকে ঝুকছে তরুণ প্রজন্ম। কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত না থেকে ঘরে বসেই কম্পিউটারের সহায়তায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করা যায়। মূলত বিদেশী তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আয় করেন ফ্রিল্যান্সাররা।

কোনো প্রকার কোর্স ছাড়াই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন আবিদুর রহমান স্বান। এই পেশায় তার প্রথম আয় ছিল ৪৫ ডলার। স্বান রাজশাহী জেলা বানেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে পড়ালেখার পাশাপাশি
তিনি এই কাজ করেন।

স্বান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখাকালীন ২০১৬ সালের পারিবারিক সমস্যার কারণে আর্থিক সমস্যা বাড়তে থাকে। হিমসিম খেতে হতো সেমিস্টার ফীর টাকা দিতে, শত চেষ্টার পরেও একপর্যায়ে স্থগিত হয়ে যায় পড়াশোনা। অর্থের অভাবে ২০১৭ সালে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে পড়ে। স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া থাকলেও দু’বেলা দুমুঠো রুজিই-রুটি জুটাতেই কষ্ট হয়ে পড়েছিল সেই সময়ে।

তিনি বলেন, জীবনের কতগুলো বেলা যে চলে গেছে এক গ্লাস পানি খেয়ে। এমন সময় জানতে পারলাম শর্ণ খান নামক আমার এক বন্ধুর কথা। সে ঢাকার ক্রিয়েটিভ আইটি শাখাতে গ্রাফিক্রা ডিজাইনের কোর্স করতো। যা শিখে অনলাইনে নানা ধরনের কাজ করে ভালো আয় করা সম্ভব। সেখানে কোর্স করতে প্রয়োজন মোট অংকের টাকা। এমন আর্থিক সমস্যার সময়ে কোর্সের জন্য এতগুলো টাকা ব্যবস্থা করা ছিল অসম্ভব। আর এত টাকা খরচ করে কত টাকায় আয় করা সম্ভব তা নিয়েও ছিল দ্বিধা।

এই ভাবে পাঁচ মাস কেটে গেলেও পড়াশোনায় ফেরা হয়নি। ২০১৭ সালের শেষের দিকে শর্ণ ফোন দিয়ে জানায় তার প্রথম ইনকাম হয়েছে ৭০ ডলার। সে আমাকে তার বাসায় আমন্ত্রন জানায়। সে একটি অনলাইন সাইট দেখায় এবং গ্রাফিক্রা রিলেটেড এপস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দেয়। অতঃপর পরের ৩/৪ মাসে তার আয় ছিল ৩৫০ ডলার। এরপরে গ্রাফিক্রোর উপর আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। ইউটিউবে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। কাজ শুরু করতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের খুবই প্রয়জন ছিল।

সেই সময়ে যাবতীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অনেক বড় লোন নিতে হয়েছিল। এরপর কোনো কোর্স ছাড়া নিজের ইচ্ছশক্তি থেকে ইউটিউব দেখে টুলসগুলো সম্পর্কে ধারণা নিয়ে এডবি ইলুসট্রেটর ও এডবি ফটোশপে মাধ্যমে কাজ শুরু করি। প্রায় ৪ মাস লেগেছিল প্রথম আয় আসতে। তা ছিল ৪৫ ডলার।

এভাবে আউটসোর্সিংয়ের দ্বারা স্বান অর্থনৈতিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়ায়। আউটসোর্সিং থেকে আসা আয় দিয়ে সে তার ছোট ছোট স্বপ্ন পুরণের পাশাপাশি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখাসহ নিজের হাত খরচ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সে মোট আয় করেছে ৬০০০ ডলার।

তার মতে, তরুণ প্রজস্ম ঘরে বসে সহজেই আউটসোর্সিংয়ের দ্বারা ভালো আয় করে পড়ালেখার খরচসহ জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। প্রয়োজন শুধু তীব্র ইচ্ছশক্তি ও আগ্রহ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে