তানোরে স্কুলের জমিতে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৬, ২০২২; সময়: ৬:১৭ pm |
তানোরে স্কুলের জমিতে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর তানোরে একটি হাইস্কুলের জমিতে সৈনিক লীগের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বেশ কয়েকটি ইটের নতুন পাকা দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

এর আগেও সেখানে একটি দোকান ও একটি গুদামঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তৎকালীন ইউএনওর হস্তক্ষেপে ওই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সম্প্রতি আবারও ওই জায়গায় প্রভাবশালীরা দোকানঘর নির্মাণ শুরু করে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের নিকট অবৈধ দোকানঘর নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি গত ২৫ অক্টোবর সরেজমিন তদন্ত করেন ইউএনও। এরপরও নির্মাণকাজ দ্রুত চালিয়ে যান প্রভাবশালীরা। ফলে নিরুপাই হয়ে গেল ১৩ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। এরপর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দোকারঘর নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নে অবস্থিত নারায়ণপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ের সামনে খেলার মাঠ, পেছনে নারায়ণপুর ও কালনা গ্রামে যাতায়াত বা প্রবেশ করা সরকারি রাস্তা। সাইডে রয়েছে নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

দুটি বিদ্যালয়ের জায়গা ও খেলার মাঠ নিয়ে ২ একর ১০ শতাংশ জমির আরএস রেকর্ডীয় মালিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপরও বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে এলাকার প্রভাবশালীরা ৯টি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেন।

এরা হলেন, উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল, খলিল, মইফুল, সিদ্দিকুর, আনসার, শাহিন, জাহাঙ্গীর, এরাজ ও আইয়ুব আলী। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থক। আর মইফুল সৈনিক লীগ নেতা।

মূলত এই মইফুলের নেতৃত্বেই বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

এ ঘটনায় নারায়ণপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন বাদী হয়ে সম্প্রতি ২৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও সরেজমিন ঘটনাস্থল তদন্ত করে গত ১৩ নভেম্বর তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আমানত আলীকে বিদ্যালয় জরিপের নির্দেশ দেন।

কিন্তু এখনো জরিপ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় অভিভাবক ছাড়াও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ নিয়ে সৈনিক লীগ নেতা মইফুল ইসলাম বলেন, তারা স্কুলের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করেননি। সরকারি রাস্তার পাশে তিনি ছাড়াও অনেকে দীর্ঘদিন ধরে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। এখন কাজ বন্ধ আছে। তবে ইউএনওর নির্দেশে তার দলীয় সাইনবোর্ড তুলে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন জানান, গ্রামের প্রভাবশালীরা যেখানে দোকানঘরগুলো নির্মাণ করেছেন, ওই জায়গা তার বিদ্যালয়ের নামে আরএস রেকর্ডীয় সম্পত্তি। বিদ্যালয়ের পাশে দক্ষিণে সরকারি রাস্তা। ওই রাস্তা থেকে শুরু তার নিজস্ব জমি।

শুধু গায়ের জোরে ও পেশিশক্তির বলে সেখানে তারা সৈনিক লীগের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করে। দুয়েকজন ছাড়া তারা সবাই বিএনপি-জামায়াতের লোক।

তিনি আরও জানান, ওখানে দোকানঘর নির্মাণ করায় শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও বখাটেরা দিনের বেলায় এসব দোকানে ক্যারাম বোর্ড খেলাসহ ছাত্রীদের নানাভাবে উক্ত্যাক্ত করছে। নিষেধ করা হলে উল্টো হুমকি দেয়া হচ্ছে। এসব ঘর নির্মাণের জন্য ক্লাস রুমের জানালা বন্ধ হয়ে গেছে।

এতে বিজ্ঞান বিভাগে বাস্তব সম্মত শিক্ষায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। আবার খলিল ও মইফুল বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের ব্যানার সাটিয়ে দাপটের সঙ্গে বলছে দলের নির্দেশে ঘর করা হয়েছে। এজন্য নিরুপায় হয়ে তিনি ইউএনও স্যারকে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

এ বিষয়ে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আমানত আলী বলেন, গত পরশু ইউএনও তাকে ওই উচ্চবিদ্যায়ের জায়গা জরিপ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি অফিসের কাছে ব্যস্ত আছেন।

দুয়েক সপ্তার মধ্যে ওই বিদ্যালয় ও পাশের সরকারি রাস্তা জরিপ করে প্রতিবেদন প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে তানোর থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ হয়নি।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ওই উচ্চবিদ্যায়ের জায়গা জবর-দখল করে দোকানঘর নির্মাণ ব্যাপারে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি।

এরপরও ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে রাস্তা ও দুটি বিদ্যালয় জরিপ প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিবেদন পেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান ইউএনও।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে